kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম

এনটিআরসিএ দায় এড়াতে পারে না

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করবে। আগেই নিবন্ধিত হয়ে থাকা প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করবেন।

মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনীত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নাম পাঠানো হবে। এক মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র জারি করবে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি। অনেক টানাপড়েন শেষে এমনই নিয়ম চূড়ান্ত হয়েছিল। তবে কাজটি করতে গিয়ে এনটিআরসিএ তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে। তাদের তৈরি তালিকায় ধরা পড়েছে নানা অসংগতি।

দেশের প্রায় ২৮ হাজার এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৪০ হাজারের মতো শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে তালিকাভুক্তও হয়েছেন অনেকে। কিন্তু নিয়োগদানের কাজটি যথাসময়ে করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ওদিকে যোগ্য শিক্ষকের অভাবে ছাত্রছাত্রীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করার পর দুই হাজার ৩৯৩ জনকে একাধিক পদে নির্বাচন করা, এমনকি এক প্রার্থীকে ১০টি পদেও নির্বাচিত করা—এমনটি কিভাবে সম্ভব? একি স্রেফ সফটওয়্যারের ত্রুটি, নাকি দায়িত্ব পালনে অসাবধানতা বা অসততা? নিবন্ধনে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নম্বরধারী অনেক প্রার্থী একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও কেন মনোনীত হননি—এ রহস্যেরও সমাধান হওয়া প্রয়োজন। গতকাল কালের কণ্ঠ’র এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অসংগতির বিষয়ে এনটিআরসিএ মুখ খুলছে না।

অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষক নিয়োগের আবেদন ব্যবস্থায়ই ছিল গোমর। কেন একাধিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একাধিক আবেদন করতে হবে? কেন একজন বেকার প্রার্থীর ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপাতে হবে? শিক্ষক নিয়োগের আবেদন থেকেই এনটিআরসিএ আয় করেছে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তাহলে প্রক্রিয়াটিকে ‘আবেদন-বাণিজ্য’ বললে কি বেশি বলা হবে? নিবন্ধন পরীক্ষা ব্যবস্থা চালুর পর মেধাবীরাই শিক্ষকতায় আসবেন বলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ না থাকলে মেধাবী প্রার্থীরা যেমন বেকার থেকে যাবেন, ছাত্রছাত্রীরাও মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। শিক্ষক নিবন্ধনের সনদের মেয়াদ মাত্র তিন বছর। পদ্ধতিগত জটিলতা বা কালক্ষেপণে তাদের অনেকের নিবন্ধনও বাতিল হয়ে যাবে, যা অপ্রত্যাশিত।

আশা করা হয়েছিল, অনলাইন পদ্ধতির ব্যবহার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দেখা দেওয়া জটিলতার স্থায়ী সমাধান দেবে। প্রক্রিয়াটিতেও স্বচ্ছতা আসবে। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ তালিকা সমস্যায় নতুন মাত্রা যোগ করল। আমাদের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ সমস্যার দ্রুত সমাধান দেবে। কারিগরি ত্রুটির কারণেই তালিকায় অসংগতি ধরা পড়েছে, নাকি পেছনে মহল বিশেষের অশুভ হাত রয়েছে তারও অনুসন্ধান হওয়া দরকার।


মন্তব্য