kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লাগামহীন দুর্নীতি

দুদকের আরো গতিশীল ভূমিকা প্রয়োজন

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সূচকে বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করেছে। উন্নয়নের এই বিস্ময় নিজের চোখে দেখতে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট গতকাল বাংলাদেশে এসেছেন।

জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক নানা সংগঠন বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বকে নানাভাবে সম্মান জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে প্রদীপের নিচে থাকা অন্ধকারের মতো বিপরীত চিত্রও কম নয়। ক্ষমতাসীন দলে ও প্রশাসনে এমন কিছু লোক আছে, যারা লাগামছাড়া দুর্নীতি ও লুটপাটে ব্যস্ত। শুধু গতকালের কালের কণ্ঠেই এ রকম বেশ কিছু খবর প্রকাশিত হয়েছে। মো. ইকবাল পারভেজ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউকে বছর পাঁচেক কাজ করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। এর আগে তিনি ছিলেন সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানের মুহুরি। অভিযোগ আছে, প্রতিমন্ত্রীর কৃপায় বয়স জালিয়াতি করে রাজউকে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন ইকবাল। তাঁর অপকর্মের ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ। দ্বিতীয় খবরটি বরগুনা সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেনকে নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের ধান-চাল-গম সংগ্রহ কর্মসূচিতে অনিয়মের মাধ্যমে গত এক বছরেই তিনি কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকার মৌসুমে বাজার থেকে তুলনামূলক বেশি দামে ধান-চাল সংগ্রহ করে থাকে। অভিযোগ আছে, তিনি কৃষকের কাছ থেকে ধান না কিনে নিজের লোক দিয়ে বাজারের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ধান কিনে গুদাম ভরেছেন। তৃতীয় খবরটি প্রকাশিত হয়েছে সাভারের আশুলিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিস নিয়ে। সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতি রীতিমতো ওপেন সিক্রেট। কিন্তু আশুলিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ এত বেশি যে দলিল লেখকরা সেখানে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে তিন সপ্তাহ ধরে দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ রয়েছে। এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া এমন দুর্নীতির অভিযোগ নিত্যদিনের। সরকার অতি দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কর্মসূচি নিয়েছে। সে চাল দরিদ্রদের না দিয়ে বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠছে। সরকারের এমন কোনো দপ্তর নেই কিংবা স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে টিআর-কাবিখা পর্যন্ত এমন কোনো কর্মসূচি নেই, যেখানে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে না।

কয়েক দশকে বাংলাদেশে রাজনীতি ও দুর্নীতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে। এক শ্রেণির লোক রাজনীতিতে যুক্তই হয় দুর্নীতি বা লুটপাট করার জন্য। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে অবৈধ মাদক ব্যবসা পর্যন্ত এমন কোনো অবৈধ কাজের অভিযোগ নেই, যা তাদের বিরুদ্ধে উঠছে না। উন্নয়নকে টেকসই ও অর্থবহ করতে হলে একই সঙ্গে লাগামহীন এই দুর্নীতির রাশ টেনে ধরতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদককে এ ক্ষেত্রে আরো কার্যকর ও গতিশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


মন্তব্য