kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অ্যাম্বুল্যান্স বাণিজ্য ও তাণ্ডব

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অ্যাম্বুল্যান্স বাণিজ্য ও তাণ্ডব

দেশের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল ঘিরে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় নানা সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের কাছে হাসপাতালে সেবা নিতে যাওয়া রোগী ও তাদের স্বজনরা জিম্মি।

এরই একটি হচ্ছে অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস। রোগীদের জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক ব্যবসা করে গেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না বা নেয় না। হাসপাতালে কর্মরতদের একটি অংশও এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। গত শনিবার যে অ্যাম্বুল্যান্সটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে চারটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে সেটির মালিকদের একজন এই হাসপাতালেরই কর্মী।

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোয় রোগী আনা-নেওয়ার জন্য যত অ্যাম্বুল্যান্স প্রয়োজন, তার তুলনায় আছে অনেক কম। এসব অ্যাম্বুল্যান্সের অধিকাংশই নষ্ট থাকে বা নষ্ট করে রাখা হয়। আর এই সুযোগটি নেয় অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। প্রতিটি হাসপাতাল ঘিরে গড়ে ওঠা এসব সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো অ্যাম্বুল্যান্সে রোগী আনা-নেওয়া করা যায় না। বাধ্য হয়েই এ সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করতে হয়। বিশেষ করে হাসপাতালে কোনো রোগী মারা গেলে এই সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করার কোনো সুযোগ নেই। বাইরের কোনো গাড়ি বা অ্যাম্বুল্যান্স হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হয় না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে। এ অবস্থা দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের বাধ্য হয়েই এই সিন্ডিকেটের বাণিজ্যিক সেবা নিতে হয়। এসব অ্যাম্বুল্যান্সের অধিকাংশই আবার রাস্তায় চলাচলের উপযোগী নয়। দূরপাল্লার ভাড়ায় গিয়ে অনেক অ্যাম্বুল্যান্স নষ্ট হয়। তখন রোগী ও তার স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আবার অদক্ষ চালক দিয়ে চালানো হয় এসব অ্যাম্বুল্যান্স। শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে এমনই এক চালকের কারণে অকালে ঝরে গেছে চারটি মূল্যবান জীবন।

সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুল্যান্সের সংখ্যা বাড়ানো না হলে এই অ্যাম্বুল্যান্স বাণিজ্য বন্ধ করা যাবে না। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সসেবা বাধ্যতামূলক করা উচিত। রোগী আনা-নেওয়ার কাজে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সসেবা দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। বাইরের কোনো সিন্ডিকেট যেন সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে ঢুকতে না পারে সেদিকে তীক্ষ দৃষ্টি রাখতে হবে। মানবতা ও সেবার প্রতীক অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে যে নির্দয় ও অনৈতিক বাণিজ্য চলছে, তা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। হাসপাতালের যেসব কর্মচারী এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। হাসপাতাল চত্বরে কোনো ঘটনা ঘটলে তার দায় নিশ্চয়ই কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। আমরা আশা করব, এই প্রাণহানির ঘটনার উপযুক্ত বিচার হবে। একই সঙ্গে এমন জরুরি সেবা নিয়ে যারা অনৈতিক বাণিজ্য করছে সেই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য