kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্বাগত বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট

উন্মোচিত হোক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য দেখতে আজ ঢাকায় আসছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। দুই দিনের সফরে এসে তিনি এখানেই পালন করবেন বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবস।

ঢাকায় একটি বক্তৃতাও দেবেন তিনি। দীর্ঘ এক দশক পর বিশ্বব্যাংকের কোনো প্রেসিডেন্টের সফর ও তাঁর উপস্থিতিতে বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবস পালন বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশের আজকের গতিশীল অগ্রযাত্রায় অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বিশ্বব্যাংক। আজকের বাংলাদেশের সঙ্গে কয়েক বছর আগের বাংলাদেশের ফারাক খুব স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন ও সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক দৃঢ় হয়েছে। এ বছরই বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ হবে, এমন পূর্বাভাস দিয়েছে ব্লুমবার্গ। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃত বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার শূন্যে নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় হয়েছে—এমন কথা বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই স্বীকার করা হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের এ অর্জনই বিশ্বব্যাংকপ্রধানকে বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী করেছে। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে আমরাও নতুন স্বপ্ন দেখতে পারি। পদ্মা সেতু থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর যে তিক্ততার সৃষ্টি, বিশ্বব্যাংকপ্রধানের এই সফর তা মুছে দেবে—এমন প্রত্যাশা স্বাভাবিক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে নিয়ে যে ইতিবাচক মেরুকরণ হচ্ছে, বিশ্বব্যাংকপ্রধানের এই সফর তা প্রমাণ করে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পদ্মা সেতু থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর বড় বিনিয়োগে ফিরেছে সংস্থাটি। দেশের ৪০টি খাতে বিশ্বব্যাংকের বর্তমান সহযোগিতার পরিমাণ ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভবিষ্যতে আরো বড় বিনিয়োগ হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংককে আরো ঘনিষ্ঠভাবে পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করি। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাই আমরা।


মন্তব্য