kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হোক

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রুপালি ইলিশ বাংলাদেশের প্রধান মত্স্যসম্পদ। জিডিপির ১ শতাংশ আসে এই ইলিশ থেকেই।

সেই রুপালি ইলিশের স্বাদ বাঙালি প্রায় ভুলতেই বসেছিল। ২০০১-০২ অর্থবছরে ইলিশ আহরিত হয়েছিল দুই লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর পর থেকেই শুরু হয় ভাটা। এর কারণ ছিল অতিরিক্ত আহরণ, প্রজননে বিঘ্ন, জাটকা নিধন, নদীদূষণ ইত্যাদি। মাত্স্যবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছিলেন, ইলিশ বাংলাদেশের উপকূল ছেড়ে ভারতের নর্মদার দিকে চলে যেতে পারে। ২০১২ সাল পর্যন্ত চিত্র এমনই ছিল। এরপর ইলিশ রক্ষায় বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৩ সালে প্রজনন মৌসুমে ১১ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা হয়। পুরোপুরি বন্ধ না থাকলেও সীমিত নিয়ন্ত্রণে ভালো ফল পাওয়া যায়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ইলিশ আহরণের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। আহরণ বৃদ্ধি পায় ৭৫ শতাংশের মতো। এর পর থেকে প্রতিবছরই চলে প্রজনন মৌসুমে কিছুদিন ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা। ২০১৫ সালে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা হয় ১৫ দিন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয় সাড়ে চার লাখ টনের মতো। জেলেরাও পরিবর্তনটা বুঝতে পারছে। তাই তারাও ক্রমে কিছুদিন আহরণ বন্ধ রাখার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। জাটকা নিধনও অনেক কমেছে। ফলে ইলিশ আবার পর্যাপ্ত হয়ে উঠছে। একই ধারাবাহিকতায় এ বছর ১২ অক্টোবর থেকে মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডে কিছু পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ে। কিন্তু সব মিলিয়ে বছরে যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে তার ৬০ শতাংশই ধরা পড়ে বাংলাদেশে। তাই ইলিশকে একান্তভাবেই বাংলাদেশের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংগত কারণে এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। কোনোমতেই এর প্রজনন পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। অতিরিক্ত আহরণ বা জাটকা নিধনের মাধ্যমে সম্পদটি ধ্বংস করা বা তাড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ইলিশের প্রজনন মৌসুম আরো কিছুটা বিস্তৃত। পুরো মৌসুম নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা গেলে সবচেয়ে ভালো হতো। কিন্তু বাস্তব কারণেই তা সম্ভব নয়। এই নির্দিষ্ট সময়ের নিষেধাজ্ঞা যাতে অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয় সে ব্যাপারে দেশের সচেতন সব মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। সম্ভব হলে এটিকে বাড়িয়ে পুরো এক মাস করতে হবে।


মন্তব্য