kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

সাহিত্যে নোবেল

সংগীতে মানবিক মূল্যবোধের বিজয়

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সাহিত্যে নোবেল

ফোক, ফোক-রক ও আরবান ফোকের কিংবদন্তি তিনি। ‘আমেরিকার মহান সংগীত-ঐতিহ্যে নতুন কাব্যিক অভিব্যক্তি সৃষ্টির জন্য’ এবার তাঁকেই বেছে নিয়েছে সুইডিশ একাডেমি।

এবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন সাড়া জাগানো শিল্পী ও গীতিকবি বব ডিলান। ৭৫ বছর বয়সী মানুষটি এখনো প্রত্যয় ও বিদ্রোহের প্রতীক। নিজের সময়কে তিনি ধরে রেখেছেন তাঁর গানের কথায় ও সুরে। শিল্পীর মহান দায়িত্ব হিসেবে সময়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। সময়ও তাঁকে গড়ে নিয়েছে। তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত গানের কাব্যভাষায় উঠে এসেছে সমসাময়িক রাজনীতি, সমাজ ও দর্শনের কথা। সামাজিক অস্থিরতা তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন সুরের মূর্ছনায়। নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মিছিলে প্রথম সারিতে থাকা বব ডিলান আমেরিকার যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনেরও পুরোধা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর ‘ব্লোইন ইন দ্য উইন্ড’, ‘দ্য টাইমস আর আ চেঞ্জিং’ গানগুলো এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। সাবটোরিয়ান হোমসিক ব্লুজ, মিস্টার ট্যাম্বুরিন ম্যান, জাস্ট লাইক আ ওম্যান, লে লেডি লে, চ্যাঙ্গেইলড আপ ইন দ্য ব্লু তাঁর ভক্তদের নিয়ে যায় এক স্বপ্নের জগতে। সার্কাসের বাজিকরের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে বব ডিলান বলেছেন, ‘আমি আমার স্বপ্নে বাঁচি। আমি আসলে বাস্তব দুনিয়ায় থাকি না। ’ নিজের স্বপ্নের জগতে অন্যকে প্রভাবিত করতে পারাই হচ্ছে যেকোনো সৃষ্টিশীল মানুষের বড় অর্জন। সেদিক থেকে বব ডিলান অবশ্যই সফল।

মানবতাবাদী বব ডিলান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গেও একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট জর্জ হ্যারিসনের আয়োজনে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে কনসার্ট ফর বাংলাদেশের মঞ্চে গেয়েছিলেন ‘ব্লোইন ইন দ্য উইন্ড’—‘কতটা কান পাতলে তবে কান্না শোনা যাবে?/ কত হাজার মরলে তবে মানবে তুমি শেষে?’। তাঁর এই মানবিক মূল্যবোধ, বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে অবস্থান তাঁর মহান হৃদয়বোধেরই পরিচয় তুলে ধরে। বোধ করি সে কারণেই তাঁর গান যতটা শ্রুতিগ্রাহ্য, ঠিক ততটাই পাঠের দাবি রাখে। তাঁকে মহান কবি হিসেবে উল্লেখ করে সুইডিশ একাডেমি তাই বলেছে, ‘তাঁকে পড়াও যায় এবং পড়াই উচিত। ইংলিশ ঐতিহ্যমাফিক তিনি এক মহান কবি। ’ তাঁর গানের কথা উত্কৃষ্ট মানের কবিতা, তাতে সুর ছাপিয়ে বক্তব্যই অনেক বেশি ধ্বনিত হয়। নিজ প্রজন্মের মুখপাত্র হিসেবে খ্যাত বব ডিলানের গানের ভাঁজে ভাঁজে দাসপ্রথার কথা উঠে এসেছে। যুদ্ধ, বর্ণবাদ ও অসংগতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তিনি। সংগীত ও সাহিত্য নিয়ে বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। প্রথা ভেঙেছেন। ফোক মিউজিকের ধারায় যোগ করেছেন বিদ্রোহের মেজাজ। নাগরিক অধিকার রক্ষার মাধ্যম হিসেবে গান ছিল তাঁর উপকরণ। যেমন গেয়েছিলেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টির কনসার্টে। তাই বব ডিলানের এই অর্জনে আমরাও তাঁর গৌরবের অংশীদার। তিনি তো মুক্তিকামী মানুষেরই প্রতিনিধি। অভিনন্দন বব ডিলান।


মন্তব্য