kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্বাগত চীনা প্রেসিডেন্ট

সহযোগিতার নতুন দিগন্ত সূচিত হোক

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



স্বাগত চীনা প্রেসিডেন্ট

বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক ঘনিষ্ঠ। বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে চীন এরই মধ্যে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছে।

সেই উষ্ণ সম্পর্কের সূত্র ধরেই আজ বাংলাদেশ সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ঢাকা। আশা করা হচ্ছে, চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রা পাবে। পারস্পরিক সহযোগিতার দিগন্ত আরো সম্প্রসারিত হবে।

অভিন্ন সীমান্ত না থাকলেও চীন বাংলাদেশের নিকটতম এক বড় প্রতিবেশী। অভিন্ন ঐতিহ্যের অধিকারী দুটি দেশের মধ্যে সুদূর অতীত থেকেই সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিকসহ নানা ধরনের যোগাযোগ বিদ্যমান। বাংলাদেশেরই সন্তান অতীশ দীপঙ্কর চীন তথা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একজন স্বীকৃত ধর্মগুরু। ভৌগোলিকভাবেও দুই দেশ অনেক অভিন্ন স্বার্থের মাধ্যমে সম্পৃক্ত। আমাদের প্রধানতম নদ ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তিস্থল চীনে। আরো অনেক নদীরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংযোগ রয়েছে হিমালয়ের সঙ্গে, যার এক প্রান্তজুড়ে রয়েছে চীন। আর এসব কারণে ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন’ এক অভিন্ন প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীবনপ্রবাহের অধিকারী ভূখণ্ড হিসেবেই পরিচিত। অভিন্ন ঐতিহ্যের এই টান এই ভূখণ্ডের মানুষের সব সময়ই থাকবে। সংগত কারণেই চীনা প্রেসিডেন্টের আগমনের সঙ্গে হৃদয়ের উষ্ণতার যোগাযোগ থাকবেই।

বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তির দেশ চীন। এর পরও অসম্ভব দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে দেশটি। লক্ষ্য শীর্ষে যাওয়া। বাংলাদেশও স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে এখন হামাগুড়ি দিচ্ছে। লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে যাওয়া। এই বাস্তবতায় দেশ দুটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্প্রসারণ খুবই জরুরি। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে দ্রুত শিল্পায়ন করতে হবে। সে কারণে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তাসহ শিল্প বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। এসব কাজে এরই মধ্যে চীনের অনেক সহযোগিতা বাংলাদেশ পেয়েছে। আবার বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও চীনা কম্পানিগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। আশা করা হচ্ছে, পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে চীনা প্রেসিডেন্টের বর্তমান সফর একটি ‘মাইলফলক’ অগ্রগতি হিসেবে গণ্য হতে পারে।

লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু এগিয়ে যাওয়া নয়, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যপথে সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ারও প্রয়োজন আছে। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়—এটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। ভূরাজনীতি বা পরাশক্তির খেলায় বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই জড়িয়ে না যায় সে ব্যাপারে স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা আশা করি, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বিসিআইএমসহ (বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার) যেসব আঞ্চলিক উদ্যোগ রয়েছে, সেগুলোকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক অন্যান্য সহযোগিতার পাশাপাশি চীনের শক্তিশালী সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত তার লক্ষ্যপথে এগিয়ে যাবে, এমনটাই প্রত্যাশিত।  


মন্তব্য