kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সৃজনশীলে অব্যবস্থাপনা

শিক্ষক প্রশিক্ষণে ব্যাপক উদ্যোগ নিন

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



যথেষ্ট প্রস্তুতি না নিয়ে কোনো নিয়ম চালু করার খেসারত দিচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষাও জিপিএ ৫ ও শিক্ষার মানে শুভঙ্করের ফাঁকি থাকার তথ্য জানান দিচ্ছে।

আট বছর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করার পর থেকে অনেক আশার বাণী উচ্চারিত হচ্ছে। তবে এই দীর্ঘ সময়ে আমরা শিক্ষার্থী দূরের কথা, শিক্ষকদেরই এই পদ্ধতিতে অভ্যস্ত করে তুলতে পারিনি। এর খেসারত দিচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম।

সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নে সক্ষম নয় মাধ্যমিকের অর্ধেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—এ তথ্য সরকারি জরিপেই উঠে এসেছে। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানেও দেখা গেছে, বাজার সয়লাব এখন নোট-গাইডে। শিক্ষকরা গাইড কিনে প্রশ্ন করছেন, একই গাইড মুখস্থ করে শিক্ষার্থীরাও উত্তর লিখছে। বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণায় এসব অসংগতি ধরা পড়ছে। উদ্বেগ ব্যক্ত করছেন শিক্ষাবিদরাও।

কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতির দায় কিছুতেই এড়াতে পারে না। ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংগৃহীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া নিষিদ্ধ করে জানায়, নিয়ম লঙ্ঘিত হলে এমপিও বাতিল হবে। কয়েক মাস পর দ্বিতীয়বার হুঁশিয়ারি জারি হয়। ধার করা বা গাইডভিত্তিক প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ বেপরোয়াভাবে চললেও কারো এমপিও বাতিল হয়নি। আমাদের অনেক শিক্ষকের যোগ্যতা নিম্নমানের। সৃজনশীল যেহেতু চালুই করা হয়েছে, উচিত ছিল ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের তৈরি করা। কাজটি সারা হচ্ছে অনেকটাই দায়সারাভাবে। আট বছরেও অর্ধেকের বেশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাননি। পাবেন কী করে! এক প্রকল্পের আওতায় ‘মাস্টার ট্রেইনার’ বানানো হয় ১২ দিনের প্রশিক্ষণে। তাঁরা জেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেন তিন দিনের। অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণের আওতায় আদৌ আসেন না, যাঁরা প্রশিক্ষণ পান তাঁদেরও কথা হচ্ছে, ‘তিন দিনে কি একটি নতুন বিষয় আত্মস্থ করা সম্ভব?’ বর্তমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে আশানুরূপ ফল না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন শিক্ষামন্ত্রীও। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া নোটে তিনি বলেছেন, প্রশিক্ষণ বিষয়ে একটি কার্যকর পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। না হলে দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হবে না।

সত্যিকার অর্থেই কর্তৃপক্ষের টনক নড়তে হবে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পাচ্ছে, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য কোনো কোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ছাত্রছাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না—এই চিত্র আমাদের একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ, মর্মাহত করছে। সৃজনশীল ব্যবস্থাটি পুরোপুরি কার্যকর করতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। গাইডনির্ভরতা বন্ধে চালাতে হবে নজরদারি। অন্যথায় আরো বড় ক্ষতি এড়ানো যাবে না।


মন্তব্য