kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইয়েমেনে বিমান হামলা

জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ জরুরি

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বর্তমান বিশ্বে নৃশংসতার জন্য সবচেয়ে কুখ্যাতি অর্জন করেছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস। কিন্তু তাদের সেই নৃশংসতাকেও যেন হার মানিয়েছে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় গত শনিবারের বোমা হামলার ঘটনা।

এ সময় হুতি বিদ্রোহীদের পরিচালিত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গালাল আল-রওশানের বাবার জানাজার আয়োজন চলছিল। এ উপলক্ষে সেখানে কয়েক হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছিল। বিমান থেকে তাদের ওপর বোমা বর্ষণ করা হলে কমপক্ষে ১৪৪ জন নিহত হয় এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়। হুতি বিদ্রোহীদের সরকার এ জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটকে দায়ী করলেও সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই বোমা হামলার প্রতিবাদে সানায় হাজার হাজার মানুষ দুদিন ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটিতে নিয়োজিত জাতিসংঘের উদ্ধারকর্মীরা একে ‘লোমহর্ষক হামলা’, ‘রক্তের হ্রদ’ ইত্যাদি শব্দে বর্ণনা করেছেন। সৌদি জোটকে সহায়তা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ঘটনাটি ‘দ্রুত পর্যালোচনা’ করছে জানিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র নিড প্রাইস বলেছেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতা কোনো ব্ল্যাংক চেক নয়। ’ তিনি আরো জানান, এর মধ্যেই জোটকে দেওয়া সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে ২০১৪ সাল থেকে বিবদমান তিন পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে যুদ্ধ করছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। এই সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ হুতি বিদ্রোহীরা। তারাও সরকার পরিচালনা করছে। তৃতীয় পক্ষে রয়েছে ক্ষমতাধর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর অনুসারী বাহিনী। এরা বর্তমানে হুতি বিদ্রোহীদের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে। গত শনিবারের বোমা হামলার পর আলী আবদুল্লাহ সালেহ তাঁর অনুসারীদের নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি সীমান্তে সৌদি সেনাদের ওপর হামলা পরিচালনার জন্য। ফলে সৌদি-ইয়েমেন সম্পর্ক আরো খারাপের দিকে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

তিন বছরের গৃহযুদ্ধে এরই মধ্যে ইয়েমেনে নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বহু মানুষ জীবন দিয়েছে। প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অর্থনীতি সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দেশটির আড়াই কোটি মানুষের চরম দুর্দশা লাঘবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। আমরাও চাই, ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হোক। পাশাপাশি এই ঘৃণ্য হামলা কারা চালিয়েছে, তা অনুসন্ধান করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক।


মন্তব্য