kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

শুভ বিজয়া

সবার জীবন সুন্দর ও কল্যাণময় হোক

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শুভ বিজয়া

আজ বিজয়া দশমী। ষষ্ঠীতে শুরু হওয়া বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হচ্ছে আজ।

মহালয়ার কাকভোরে পূর্বপুরুষদের তর্পণের মধ্য দিয়ে বেজে উঠেছিল তাঁর আগমনী সুর। দুর্গতিনাশিনী হিসেবে সম্মানীয়া এই দেবী বাংলার সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে পরম পূজনীয়া। অশুভ শক্তির প্রতীক অসুরদের দলপতি মহিষাসুর বধের ভেতর দিয়ে দেবকুলকে রক্ষা করে দেবী দুর্গা নিশ্চিত করেছিলেন অন্যায় ও অশুভ শক্তির পরাজয়, ন্যায় ও শুভ শক্তির জয়। মানুষের মহত্ত্বকে প্রাণিত করে তিনি দূর করেন মানুষের মনের দৈন্য। নিশ্চিত করেন কল্যাণ। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, দশভুজা দেবী দুর্গা শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যা রূপে মর্ত্যলোকে আসেন। সন্তানদের নিয়ে পক্ষকাল পিতৃগৃহে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। এবার তিনি এসেছেন ঘোড়ায় চেপে। ফিরেও যাবেন ঘোড়ায়। শাস্ত্রমতে, এর ফল হবে ‘ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে’। অর্থাৎ সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংসারিক ক্ষেত্রে ঘটবে অস্থিরতা। রাজনৈতিক উত্থান-পতন, সামাজিক স্তরে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, গৃহযুদ্ধ, দুর্ঘটনা, অপমৃত্যু বাড়বে।   

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, ত্রেতাযুগে রাম তাঁর স্ত্রী সীতাকে উদ্ধার করতে দেবী দুর্গার অকালবোধন করেন। ব্রহ্মার নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গার সাহায্যে রাবণ বধ করে সীতাকে উদ্ধার করেন তিনি। দেবীর সেই আগমনের সময়ই দুর্গোৎসব। পুরোহিতরা বলছেন, দুর্গা দেবীর প্রকৃত আগমনের সময় চৈত্র মাস। অর্থাৎ বসন্তকাল। চৈত্র মাসে যে দুর্গাপূজা হয় তাকে বলা হয় বাসন্তীপূজা। তবে বাংলাভাষী অঞ্চলে শারদীয় পূজাই সবচেয়ে বড় উৎসব। দেবীপক্ষের সূচনা হয় আশ্বিন শুক্লপক্ষের অমাবস্যার দিন; সেদিন মহালয়া। আর দেবীপক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিনে কোজাগরী পূর্ণিমায়, লক্ষ্মীপূজার মধ্য দিয়ে। এর মধ্যে ষষ্ঠ দিন, অর্থাৎ ষষ্ঠীতে বোধন। আর দশম দিন, অর্থাৎ দশমীতে বিসর্জন। দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা এই পাঁচ দিনই চলে।

বাঙালির সাংস্কৃতিক মিলনসূত্র হিসেবে শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমুন্নত রাখার উত্কৃষ্ট উদাহরণ। অন্যায়, অশুভ ও অসত্যের বিরুদ্ধে ন্যায়, শুভ ও সত্যের চূড়ান্ত বিজয় ঘটে—এই হলো সব সম্প্রদায়ের মানুষের, সব ধর্মের মূল কথা। মানুষের পরম লক্ষ্য আত্মিক শুচিতা অর্জন ও তা রক্ষা করে চলা। কিন্তু মানুষ সে লক্ষ্যে সব সময় অবিচল থাকতে পারে না। কখনো কখনো মানুষ পথের দিশা হারায়। হয়ে ওঠে নির্মম, কখনো বা নৃশংস। নির্মমতা ও নৃশংসতারই প্রতীক পৌরাণিক মহিষাসুর যেন মানুষকে পতন ও ধ্বংসের পথে টেনে নিয়ে যায়। মানুষকে সেই পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে আবির্ভূত হন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। চিরন্তন দিশারি তিনি—সত্য, শুভ ও ন্যায়ের পথ দেখিয়ে দেন।

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মানুষে-মানুষে সব বিভেদ ও সংকীর্ণতা চিরতরে দূর হয়ে শক্তিশালী হবে মিলন ও সম্প্রীতির ধারা। সত্য, ন্যায় ও শুভশক্তির জয় হোক—এটাই আমাদের কামনা। সবাইকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা। সবার জীবন সুন্দর ও কল্যাণময় হোক। শুভ বিজয়া।


মন্তব্য