kalerkantho


চালের বাজার অস্থির

দাম বাড়ানোর প্রবণতা রোধ করুন

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বেশ কিছুদিন থেকেই অস্থিতিশীল দেশের চালের বাজার। যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের অনৈতিক কারসাজি ছাড়া বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। গত বোরো মৌসুমে ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে তিন কোটি টনেরও বেশি বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের গুদামে মজুদ আছে ১৩ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি খাদ্যশস্য। মিল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীদের গুদামে মজুদের পরিমাণও ৭০ থেকে ৮০ লাখ টন। এ অবস্থায় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। আমদানি করা চালের ক্ষেত্রে দাম বাড়তে পারে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারতে চালের দাম স্থিতিশীল। কাজেই চাল আমদানিতে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে না। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে হতদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে।

এ অবস্থায় বাজারেও চালের সরবরাহে টান পড়ার কথা নয়। তার পরও চালের বাজার অস্থিতিশীল। গত দুই সপ্তাহে সরু ও মোটা চালের দাম বেড়েছে।

বাজারে চালের দাম বাড়বে কেন? যেকোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কোনো না কোনো কারণ থাকে। আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য ধানের আবাদ কয়েক বছর ধরেই ভালো হচ্ছে। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বাংলাদেশের চাল এখন দেশের বাইরেও রপ্তানি করা হয়। খাদ্যে, বিশেষ করে চালে আমদানিনির্ভরতা নেই। এবার আবহাওয়াও বৈরী হয়নি। রাজনৈতিক অচলাবস্থা ছিল না। মালামাল পরিবহনেও কোনো অসুবিধা হয়নি। ওদিকে মাত্র দুই মাস আগে শেষ হয়েছে বোরো মৌসুম। এক মাসের মধ্যে বাজারে নতুন আমন ধান আসবে। সরকার ও ব্যবসায়ীদের গুদামে যথেষ্ট চাল মজুদ আছে। কাজেই দুই মাস আগে বোরো মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে বাজারে ধান কিংবা চালের সরবরাহ কম—এমন যুক্তিও গ্রহণযোগ্য নয়। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে এটা যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজি, তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। বাজার অস্থিতিশীল করে তুলতেই চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে।

চালের এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। হতদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির পাশাপাশি ওএমএস, ভিজিএফ ইত্যাদি নতুন করে শুরু করা যায় কি না তা ভেবে দেখতে হবে। সরকারের খাদ্যগুদামে যে চাল আছে, তা খোলাবাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করা গেলেও বাজারে তার প্রভাব পড়বে। আমরা আশা করব, চালের বাজার স্থিতিশীল করতে সম্ভব সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য