kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গিবিরোধী সফল অভিযান

পুলিশের সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গিবিরোধী সফল অভিযান

জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর একের পর এক সফল অভিযান পরিচালনায় মানুষ অনেকটাই স্বস্তি অনুভব করছে। বিশেষ করে গুলশান হামলার পর থেকে অভিযান পরিচালনায় যে গতি এসেছে, তা রীতিমতো প্রশংসনীয়।

তারই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের চারটি আস্তানায় আবারও সফল অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের গুলি বিনিময়ে শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি আকাশসহ ১১ জঙ্গি নিহত হয় এবং পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে নিহত হয় আরেক জঙ্গি। উদ্ধার হয় একে-২২ রাইফেলসহ বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ। এর আগেও ঢাকার কল্যাণপুর, আজিমপুর, রূপনগর, নারায়ণগঞ্জসহ জঙ্গিদের বেশ কিছু আস্তানায় পুলিশের অভিযান চলে। এসব অভিযানে তামিম, মেজর (অব.) জাহিদসহ নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন জঙ্গি নিহত হয়। ধারণা করা যায়, এসব অভিযানে জঙ্গিরা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু তারা নির্মূল হয়ে গেছে—এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। বিশেষ করে, যেখানে নিখোঁজ ও সন্দেহভাজন তালিকার অনেকেই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের আরো আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং জঙ্গিবিরোধী এ অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

জঙ্গিবাদ এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অনেক নেতিবাচক দিকও যুক্ত রয়েছে। রয়েছে ইসলাম ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা থেকে সৃষ্ট ধর্মীয় উন্মাদনা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশের কিছু ধনী নাগরিক জঙ্গিবাদে অর্থের জোগান দিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানসহ কিছু দেশের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর বিরুদ্ধে জঙ্গিদের মদদ দান, প্রশিক্ষণ ও রসদ সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ওয়াকিবহাল মহল মনে করে, একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ রপ্তানির নানামাত্রিক চেষ্টা করে যাচ্ছে পাকিস্তান। আর সে কারণেই বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে এমন দল ও গোষ্ঠীর গতিবিধি নজরে রাখতে হবে। নিরাপত্তাব্যবস্থার ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। এসব বাহিনীতে যাতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ না ঘটে, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

জঙ্গিবাদ কোনো দেশকে কিভাবে ধ্বংস করে দেয় এবং সে দেশের মানুষের জীবনে কী ভয়াবহ দুর্ভোগ নিয়ে আসে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে তাকালেই আমরা তা দেখতে পাব। সেই উপলব্ধি থেকে জঙ্গিবাদবিরোধী জনসচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ নিয়ে রাজনীতি করা হলে তা হবে খুবই দুঃখজনক। অথচ বাস্তবে তাই ঘটছে। বুধবারের অভিযানের পরও একটি রাজনৈতিক দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা প্রশ্ন করেছেন, জঙ্গিদের মেরে ফেলা হয় কেন? গ্রেপ্তার করা হয় না কেন? উন্নত দেশগুলোসহ সারা বিশ্বে সশস্ত্র জঙ্গিদের কিভাবে মোকাবিলা করা হয়, তা তাঁদের অজানা নয়। তার পরও তাঁদের এ ধরনের বক্তব্য প্রদানের উদ্দেশ্য কী?

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, সরকারের জঙ্গিবিরোধী কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। আমরাও তেমনটাই আশা করি। এ জন্য পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর আরো জোর দিতে হবে। পাশাপাশি জঙ্গিদের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।


মন্তব্য