kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুলিশেও নিয়োগ-বাণিজ্য

স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যবস্থা নিন

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সংখ্যা কম। অন্যদিকে জঙ্গি হামলাসহ নানামুখী অপরাধ তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ বাহিনীর সদস্য বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশে ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বাণিজ্য শুরু হয়ে গেছে। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি পুলিশের কিছু সদস্যও নিয়োগ-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ সুপারদের কাছে মন্ত্রী-এমপিরা ডিও লেটার পাঠাচ্ছেন। কিছু পুলিশ সদস্যও নিয়োগ নিশ্চিত করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন বলে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেছেন, স্বচ্ছভাবেই নিয়োগ সম্পন্ন হচ্ছে। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কোন কোন জেলায় নির্ধারিত পদের বিপরীতে এলাকার এমপি ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা কতজনের নাম পাঠিয়ে সুপারিশ করেছেন। কোনো কোনো জেলায় আওয়ামী লীগ নেতাদের তদবিরে জামায়াতের লোকজনের চাকরি হয়েছে বলেও অভিযোগ এসেছে। নিয়োগ-বাণিজ্যের প্রমাণও মিলেছে কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে। এই অভিযোগে রংপুরে তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে বলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কক্সবাজারের এক ছাত্রলীগ নেতা তাঁর ফেসবুক স্টেটাসে পুলিশের নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা স্বাভাবিক বোধসম্পন্ন যেকোনো মানুষকে ভাবিয়ে তুলবে। এই যদি হয় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের অবস্থা, তাহলে এই পুলিশ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা যাবে? 

পুলিশের নিয়োগ-বাণিজ্য অনেকটাই ওপেন-সিক্রেট। অতীতেও পুলিশের নিয়োগে বাণিজ্য হয়েছে। দুর্নীতির নানা প্রতিবেদনে পুলিশের দুর্নীতির কথা বারবার উঠে এসেছে। টাকা দিয়ে যাঁরা এই বাহিনীতে যোগ দেবেন, তাঁদের কাছ থেকে দেশসেবা-জনসেবা আশা করা বৃথা। চাকরির শুরু থেকেই তাঁরা ছুটবেন অবৈধ উপার্জনের পথে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেশপ্রেম ও পুলিশের চাকরির মর্যাদা কোনো বিষয় হবে না।

পুলিশের যেকোনো পদে নিয়োগে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে তদবির বা নিয়োগ-বাণিজ্যের কোনো সুযোগ কেউ না পায়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। তা না হলে পুলিশের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা কোনোভাবেই আশা করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এই প্রত্যাশা আমাদের।


মন্তব্য