kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিদেশি অনুদানে যথেচ্ছাচার

আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করুন

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিদেশি অনুদানে যথেচ্ছাচার

সারা দুনিয়ায় যেভাবে সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তাতে কোনো দেশই নিজেদের সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করতে পারে না। বাংলাদেশও নয়।

গুলশান হামলার মতো বড় ঘটনায় দেশের মানুষের শঙ্কা অনেক গুণে বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় জঙ্গিবাদ নির্মূল সরকারের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। আর সে ক্ষেত্রে সরকারের প্রধান করণীয় হচ্ছে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের উৎস বন্ধ করা। অভিযোগ আছে, বিভিন্ন সময়ে কিছু বিদেশি ব্যক্তি বা সংস্থার কাছ থেকে কিছু এনজিও বা বেসরকারি সংস্থা বড় অঙ্কের অর্থ নিয়েছে এবং তারা সেই অর্থ জঙ্গি কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেছে। এমনই কয়েকটি দেশি ও বিদেশি এনজিওর কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধও করা হয়েছে। কিন্তু তারা থেমে থাকে না, বরং নতুন নতুন নামে তাদের পুরনো কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাই দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই এনজিওগুলোর ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে উঠেছে। আশার কথা, বিলম্বে হলেও আমাদের জাতীয় সংসদে গত বুধবার বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল ২০১৬ পাস হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিলটির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এনজিওর নামে জঙ্গিবাদে অর্থায়নসহ রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর অনেক তৎপরতাই রোধ করা সম্ভব হবে।

সমাজসেবামূলক সংগঠন সব দেশে, সব যুগেই ছিল। তারা স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে সমাজের উন্নয়নে অনেক ভালো ভালো কাজ করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসেও তার ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত রয়েছে। কিন্তু বর্তমান এনজিও-সংস্কৃতি সেই ধারা থেকে চরিত্র ও কার্যক্রমের দিক দিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বলা হয়ে থাকে, অনেক গবেষণার মাধ্যমে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সহযোগী হিসেবে দুনিয়াব্যাপী এই এনজিও-সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সংগত কারণেই এই এনজিও-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও অনেক সমালোচনা রয়েছে। অভিযোগ আছে, তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশের সরকার যদি পাশ্চাত্যের দেশগুলোর বা তাদের বহুজাতিক কম্পানির স্বার্থের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে যায়, তখন সেই সরকারকে ফেলে দেওয়ার জন্য বা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এসব এনজিওকে ব্যবহার করা হয়। তারা মিথ্যা বা অর্ধসত্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে জনমতকে বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করে। অর্থদাতাদের অন্যায় এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগও আছে কিছু এনজিওর বিরুদ্ধে। এসব কারণে অনেক দেশেই আজ এনজিওগুলোর বিদেশি অর্থ নেওয়া বা তাদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কোনো কোনো দেশে বিদেশি অর্থে এনজিও পরিচালনা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে কিছু কিছু এনজিওর বিরুদ্ধে লুটপাটেরও অভিযোগ রয়েছে। তাই নিয়মনীতির মাধ্যমে এনজিওর নামে পরিচালিত যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রোধ করাটাই যৌক্তিক।

আমাদের মনে রাখতে হবে, ভিক্ষা বা সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে কোনো দেশের উন্নয়ন হয় না। গরিবিও যায় না। সাব-সাহারান দেশগুলোই তার প্রমাণ। কয়েক দশকে বহু সাহায্য-সহযোগিতা গেছে সেসব দেশে। কিন্তু গরিবি হটেনি। এখনো মানুষ না খেয়ে মরছে। তাই সাহায্য-সহযোগিতার মোহ ত্যাগ করতে হবে। এনজিও-সংস্কৃতির নামে দেশের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার ক্রমেই সেদিকে আরো মনোযোগ দেবে।


মন্তব্য