kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুই নবজাতকের মৃত্যু

হাসপাতাল ও ক্লিনিক নিয়মের মধ্যে আনুন

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ফরিদপুরের পর বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এক নবজাতকের মৃত্যু দেশের চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসকের দায়িত্ববোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষণা করা কিংবা তার নামে ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা চিকিৎসাব্যবস্থার কোন নীতিমালার মধ্যে পড়ে? চিকিৎসকরাও মানুষ।

তাঁদেরও ভুল হতে পারে। কিন্তু নবজাতককে এভাবে মৃত ঘোষণা করে দেওয়া কি সাধারণ ভুলের মধ্যে পড়ে? ফরিদপুরের নবজাতক গালিবা হায়াতকে মৃত ঘোষণার পর গভীর রাতে তার স্বজনরা তাকে দাফনের জন্য কবরস্থানে নিয়ে গিয়েছিল। রাতে কবর দিতে না পারায় একটি কার্টনে ভরে রেখে আসা হয়েছিল সেখানে। ভোরে দাফন করতে গেলে শিশুটি নড়াচড়া করে ওঠায় সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হেলিকপ্টারে ঢাকায় এনে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার পরও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রামের শিশুটির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার বিশেষায়িত সিএসসিআর হাসপাতালে জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষণা করে পাঠানো হয়েছিল তার মায়ের কাছে। নবজাতককে মৃত ঘোষণা করে সনদও দেওয়া হয়েছিল। মায়ের কোলে শিশুটি নড়াচড়া করে উঠলে তাকে নেওয়া হয় এনআইসিইউতে। ৩৬ ঘণ্টা পর শিশুটির মৃত্যু হয়। চট্টগ্রামের শিশুটির জন্য সেখানে মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রামের নবজাতকও অপরিণত ছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব ক্ষেত্রে হাসপাতালের যে সেবা দেওয়ার কথা তা কি দিয়েছে হাসপাতাল? অপরিণত শিশু প্রসব করানোর সময় যেসব ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বা যেসব ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়ে প্রসব করানো উচিত, সিএসসিআর হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক কি তা নিশ্চিত করেছিলেন?

আমাদের দেশের বেসরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে অনেক অভিযোগ আছে। এসব হাসপাতাল শুধু ব্যবসায়িক দিকটিই প্রাধান্য দেয় বলে শোনা যায়। এসব হাসপাতালে পূর্ণকালীন কোনো চিকিৎসক থাকেন না। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডেকে এনে চিকিৎসাব্যবস্থা চালু রাখা হয়। চট্টগ্রামের যে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল, তার মা-বাবাও চিকিৎসক। একটি হাসপাতালে যদি চিকিৎসক দম্পতির সঙ্গেই এমন আচরণ করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ সেখানে কী সেবা পাবে? ওই হাসপাতালে সে রাতে এনআইসিইউ ও আইসিইউ বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন না বলেই খবরে প্রকাশ। যিনি ডেথ সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন তিনিও চিকিৎসক কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।  

আমরা চাই স্বাস্থ্যসেবার নামে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা বন্ধ হোক। স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।


মন্তব্য