kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে অনিয়ম

দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে অনিয়ম

‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগানসহ শুরু হওয়া ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কর্মসূচির সুবিধা পেতে শুরু করেছে হতদরিদ্র ও অসহায় অসংখ্য মানুষ। তবে কোথাও কোথাও এ কর্মসূচি নিয়ে দুর্নীতি চলছে।

সহায়-সম্বলহীন মানুষের ক্ষুধামুক্তির লক্ষ্যে নেওয়া একটি কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ভাগ বসাবে—এ অপরাধ অমার্জনীয়। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ডিলার ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় সরকারি দলের স্বাবলম্বী লোকজন অনিয়ম করছে। অনিয়ম-দুর্নীতি দেখভালের কথা থাকলেও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা যথাযথ ভূমিকা রাখছেন না। সরকারকে এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে।

অভিযোগের খবর খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদপ্তর শুধু নয়, প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই চাল বিতরণে অনিয়ম করলে ডিলারশিপ বাতিল হবে, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে যথার্থ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, তালিকায় সক্ষম মানুষের নাম উঠে থাকলে বাদ দিতে হবে। তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকা যাচাই করে দেখতেও নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কোনোভাবে অমান্য হতে পারে না। কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কালের কণ্ঠকে বলেছেন, অনিয়মের ঘটনায় মামলা করতে স্থানীয় প্রশাসনকে মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তর—দুই দপ্তর থেকেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। আমরা এই নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়ন চাই।

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন আমাদের দেশে স্থায়ী রূপ নিয়েছে। অতীতে অসহায় মানুষের কল্যাণে কিছু করার ব্রত থেকে মানুষ রাজনীতিতে আসত। এখন উল্টো দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্য লুণ্ঠন করতে অনেকে রাজনীতিকে হাতিয়ার করছে। সরকার জনবান্ধব না হলে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরাবর বলে আসছেন, সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে চান। প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষ্য যে শুধু কথার কথা নয়, তারই প্রমাণ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ। তবে কর্মসূচি গ্রহণই বড় কথা নয়। কাঙ্ক্ষিত জনগোষ্ঠী উপকৃত হলে তবেই লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব হবে।

অতীতেও আমরা দেখেছি, সরকারের অনেক শুভ উদ্যোগ দলের লোকজনের কারণে বিতর্কিত ও ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায়ভার প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের ওপরও বর্তায়। কারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু থেকে শেষ করা পর্যন্ত কঠোর নজরদারি থাকলে, অনিয়মের ক্ষেত্রে শাস্তি নিশ্চিত হলে লুটপাটের অপসংস্কৃতি এমন প্রবল হয়ে উঠত না। সোনার বাংলা সত্যি যদি আমরা গড়তে চাই, রাজনৈতিক লুটপাট বন্ধ হতে হবে। ঊর্ধ্বে উঠতে হবে দলীয় স্বজনপ্রীতির। দল থেকে শুরু করে সরকারি প্রশাসন—সর্বত্র জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে আইনেরও শাসন। কারণ শাস্তি পেলে অপরাধীরা সংশোধনের সুযোগ পায়, অন্যরাও সাবধান হয়ে যায়।

আমরা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে অনিয়মের প্রতিটি ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত শাস্তি প্রত্যাশা করছি। গরিব মানুষের অধিকারে যারা ভাগ বসায় তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। ব্যাপকভাবে অনিয়ম চলছে; কিন্তু নেই কার্যকর প্রশাসনিক নজরদারি, এরও বিহিত হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনা ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সামনে রেখে যেসব কর্মসূচি নিচ্ছেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যেককে সেগুলোর সঙ্গে একাত্ম হতে হবে।


মন্তব্য