kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

কাপ্তাইয়ে ভবনধস

দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কোনো ভূমিকম্প নয়, জোর বাতাসও নয়, এমনিতেই ভবনটি ধসে পড়েছে। এতে শিশুসহ নিহত হয়েছেন পাঁচজন।

গুরুতর আহত একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে। কোনো দুর্যোগ ছাড়াই এমন ভবনধস বা হেলে পড়ার ঘটনা এর আগেও অনেক ঘটেছে। খোদ রাজধানীতেই ডজনখানেকের বেশি ঘটনা ঘটেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। হয়তো বা আরো বেশি করেই ঘটবে। কারণ এমন দুঃখজনক পরিণতি রোধ করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। যাঁদের এসব উদ্যোগ নেওয়ার কথা, তাঁদের এসব মৃত্যু নিয়ে বিশেষ কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না।

কাপ্তাইয়ের ভবনধসের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, যা নিয়ম রক্ষার জন্য করা হয়েই থাকে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেবে এবং সংশ্লিষ্ট অফিসে একটি ফাইলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ধারণা করা যায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরো অঘটন রোধের ক্ষেত্রে এই রিপোর্ট কোনো কাজেই আসবে না। কাপ্তাইয়ের দোতলা ভবনটি কেন ধসে পড়ল, তা এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি। উদ্ধারকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, নির্মাণত্রুটির কারণেই ভবনটি ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, কাপ্তাই লেকের পাড়ে গড়ে তোলা ভবনটির মাটি সরে গিয়ে সেটি কাত হয়ে লেকের পানিতে গিয়ে পড়েছে।

কেউ আত্মহত্যা করতেই পারে। তাতে অন্যরা প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তার পরও প্রকাশ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা দেখতে পেলে আইন তাতে বাধা দেয়। নিয়মনীতি না মেনে ভবন তৈরি করে তাতে বসবাস করা আত্মহত্যারই নামান্তর। আর সেই ভবনে যদি ভাড়ার বিনিময়ে অন্যদের থাকতে দেওয়া হয় এবং তাতে অন্যদের মৃত্যু হয়, তাহলে সেটি হত্যারই শামিল। কিন্তু আমাদের কোনো আইনই এই হত্যা বা আত্মহত্যায় বাধা দেয় না কেন? এমন ভবন কি কাপ্তাইয়ে একটিই ছিল, নাকি আরো অনেক আছে তা কি খুঁজে দেখা হবে? রাজধানীসহ সারা দেশে এমন ভবন অনেক আছে, বিভিন্ন গবেষণায়ও তা উঠে এসেছে। ভবনধসের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসে বলে, ভবনটি অনুমোদনহীন। কিন্তু অনুমোদনহীন ভবন তৈরিতে বাধা দেওয়া হলো না কেন? প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়নি, কাপ্তাইয়ের ভবনটির অনুমোদন ছিল কি না। অনুমোদন থাকলে সেটি কিসের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল? যাঁরা অনুমোদন দিয়েছিলেন, তাঁরাও কি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী নন? অনুমোদনহীনভাবে ভবনটি তৈরি হয়ে থাকলে স্থানীয় প্রশাসনকে এর দায় নিতে হবে। আমরা চাই, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের নিজ নিজ ভূমিকা বা অবহেলার জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হোক। ভবনের মালিকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং তার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি করে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ করা হোক। পাশাপাশি বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করার মাধ্যমে আরো বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার আগেই ভেঙে ফেলা হোক।

 


মন্তব্য