kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সৃজনশীল প্রশ্ন নিয়ে আন্দোলন

ভুল-বোঝাবুঝির দ্রুত অবসান হোক

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কর্তৃপক্ষ ভুল করলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ প্রতিবাদ জানানোর অধিকার অবশ্যই রাখে। তবে এ ক্ষেত্রে সত্যিই ভুল হয়েছে কি না তা আগে নিশ্চিত হয়ে নিতে হয়।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর পুনর্বণ্টনের প্রতিবাদে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। অথচ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ সিদ্ধান্তে পরীক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি কোনো বোঝা চাপবে না। বরং শিক্ষার্থীরা হলে সময়ের হিসাব করে পরীক্ষা দিলে লেখার জন্য তুলনামূলক বেশি সময় পাবে। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা যত দ্রুত উপলব্ধি করবে ততই মঙ্গল। নতুন নিয়মে জিপিএ ৫ পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে আশঙ্কায় কিছু স্কুলও ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনে নীরব সমর্থন জোগাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত হতে পারে না।

গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর পর ধারাবাহিকভাবে পাসের হার বাড়লেও কমেছে শিক্ষার মান। প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ আর ছাত্রছাত্রীরা জিপিএ ৫-এর পেছনে দৌড়াচ্ছে। তাদের অনেকে ইংরেজিতে শতভাগের কাছাকাছি নম্বর নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করছে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সম্মান শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যায় না! তার মানেই হচ্ছে শিক্ষাদান বা পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় কোনো গলদ রয়ে গেছে। এ অবস্থায় শিক্ষাবিদরাও পর্যায়ক্রমে এমসিকিউ তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

গ্রেডভিত্তিক ফলে প্রায় পূর্ণ নম্বর পেয়ে শিক্ষার্থীরা পাস করলেও তাদের অনেকের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান কম। এদিক থেকেও এমসিকিউ কমিয়ে সৃজনশীল অংশ বৃদ্ধির উদ্যোগটি যথার্থ। এ ছাড়া অনেক শিক্ষক এক-দেড় ঘণ্টা আগে প্রশ্ন হাতে পাওয়ার সুযোগ নিয়ে এমসিকিউ অংশ সমাধান করে শিক্ষার্থীদের উত্তর সরবরাহ করেন। এই অসাধুতা যে শিক্ষার্থীদের মেধা ও চরিত্র ধ্বংস করছে তা বিবেচনা না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও জিপিএ ৫-এর সংখ্যা বৃদ্ধিকে বড় করে দেখছে।

সময় সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ নাকচ করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ যে ভাষ্য দিয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে। সৃজনশীল প্রশ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময় পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এখন ১৫ মিনিট আগে খাতা দেওয়া হবে। ৩০ মিনিটের এমসিকিউ পর্ব শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগেই পরীক্ষার্থী ইচ্ছা করলে সৃজনশীল অংশের উত্তর লেখা শুরু করতে পারবে। এ ছাড়া সিদ্ধান্তটি অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল, এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই পর্যায়ে এসে আন্দোলনে নামার অর্থই হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের মূল্যবান সময়ের অপচয়।

শিক্ষাদান অনেকের কাছেই এখন ব্যবসা। তাই প্রতিষ্ঠানগুলো জিপিএ ৫-এর পেছনে ছুটছে, ছাত্রছাত্রীরাও জ্ঞানলাভের বদলে গ্রেডমুখী হয়ে উঠেছে। ভয়ংকর এই প্রতিযোগিতা বন্ধ হতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, মূল্যবান সময়ের অপচয় না করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মন দেবে। ভুল-বোঝাবুঝি অবসানে কর্তৃপক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও মতবিনিময় করতে পারে।


মন্তব্য