kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নারী নির্যাতন কমছে না

বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নয়ন জরুরি

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে। সবক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণও আশাব্যঞ্জক।

সরকারপ্রধান, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদে নারীদের জয়জয়কার। পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে নারী। শিক্ষায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভালো করছে। সারা দুনিয়ায় বাংলাদেশের নারী জাগরণ সাড়া ফেলেছে। আন্তর্জাতিক পুরস্কারও এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ‘ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন’ শিরোনামের জরিপ যে ফল বলছে, তাতে বাংলাদেশে নারীর অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পাঁচ বছর আগে বিবিএস একই বিষয়ে জরিপ করেছিল। উভয় জরিপের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ২০১১ সালে বিবাহিত নারীদের ৮৭.১ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হতো। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ৮০.২ শতাংশ বিবাহিত নারী একইভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। গত পাঁচ বছরে বিশ্ব যেভাবে এগিয়েছে, তাতে এই প্রতিবেদনের তথ্যে খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিবিএস পরিচালিত জরিপ বলছে, ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীরা শারীরিক নির্যাতনের ঝুঁকির মধ্যে থাকে সবচেয়ে বেশি। দরিদ্র নারীদের বেশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও নারী নির্যাতনের শিকার হয়।   কর্মক্ষেত্রেও নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে—এমন তথ্য আমাদের পীড়িত করে। এখনো দেশের বেশির ভাগ নির্যাতিত নারী পারিবারিক সম্মান কিংবা লোকলজ্জার ভয়ে নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে জানান না। আইনগত সহায়তা নেওয়ার সংখ্যাও কম।

দিনে দিনে দেশ ও সমাজ এগিয়ে যাবে—এমন ভাবনাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন’ শিরোনামের জরিপ থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে প্রতীয়মান হয় যে আমাদের সমাজ এখনো সেভাবে অগ্রসর হতে পারেনি। বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে যৌতুকের কারণে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটত। একুশ শতকের বাংলাদেশেও দেখা যাচ্ছে, কূপমণ্ডূকতা থেকে সমাজ মুক্ত হতে পারেনি। উচ্চবিত্ত কিংবা তথাকথিত শিক্ষিত পরিবারে যেমন, তেমনি অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোতেও নারী নির্যাতনের সেই পুরনো চিত্রই রয়ে গেছে। প্রতিদিনই যেন প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে নারীকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। নারীর অবস্থার উন্নয়নে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ বদলে দিতে না পারলে নারী নির্যাতন কমবে না। আমরা আশা করব সবার সর্বাত্মক সহযোগিতায় নারী আপন অবস্থানে মাথা তুলে দাঁড়াবে।


মন্তব্য