kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

জঙ্গিবাদের হুমকি

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা জরুরি

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গিবাদের হুমকি

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি এখন এক বৈশ্বিক সমস্যা। মধ্যপ্রাচ্যে আইএস, আল-কায়েদা, পাকিস্তান-আফগানিস্তানে তালেবান, আফ্রিকায় আল শাবাব, বোকোহারাম নিষ্ঠুর সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে।

ইউরোপ-আমেরিকায় একের পর এক জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই জঙ্গি-সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশও এই বাস্তবতার বাইরে নয়। এরই মধ্যে এখানে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা যথেষ্ট পরিমাণে আন্তর্জাতিক মনোযোগও কেড়েছে। এমনি একসময়ে গত রবিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সংলাপ। তাতে নিরাপত্তাসংক্রান্ত পারস্পরিক উদ্বেগ নিরসনে গভীর ও জোরালো অংশীদারির বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা চেয়েছে। সংলাপে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়াদি ছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়েও কথা হয়েছে। পাশাপাশি মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতাসংক্রান্ত নীতিমালা সমুন্নত রেখে উভয় দেশ আগামী দিনগুলোতে নিরাপত্তার প্রশ্নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ঢাকা সফর করে গেছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশ নেওয়ার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সেসব আলোচনায়ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ও আন্তরিকতার প্রকাশ ঘটেছে। সেই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক উত্তরোত্তর আরো এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বড় ধরনের হুমকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমাদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা খুবই কম। এখানেও যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশের সহযোগিতা আমাদের খুবই প্রয়োজন। বঙ্গোপসাগরের এক বিশাল অংশের ওপর বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখানে প্রাকৃতিক সম্পদের বিপুল আধার রয়েছে। অথচ তার নিরাপত্তা বিধান, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আমাদের সীমাবদ্ধতা অনেক। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে আমাদের কোস্ট গার্ডের দক্ষতা উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ধারা ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তাসহ আরো অনেক বিষয় রয়েছে; যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ভূ-রাজনীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও বঙ্গোপসাগরের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দক্ষতার সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিনির্মাণ ও পরিচালনা করা খুবই জরুরি। বাংলাদেশে উন্নয়নের যে গতি সঞ্চারিত হয়েছে, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের কারণে তা বিঘ্নিত হোক, এটা কারোই কাম্য নয়। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি সহায়ক হবে। আমরা আশা করি, দুই দেশের মধ্যকার এই নিবিড় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো গভীর ও বিস্তৃত হবে।


মন্তব্য