kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বেনাপোল স্থলবন্দরে অগ্নিকাণ্ড

আরো সতর্কতা প্রয়োজন

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গাজীপুরের টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ৩৮ প্রাণহানির রেশ এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে গতকাল রবিবার ভোরে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের একটি পণ্য গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গুদামটিতে প্রসাধনসামগ্রী ও রাসায়নিক দ্রব্য থাকায় আগুন নেভাতেও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ডজন ইউনিট কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন আয়ত্তে আনে। একই দিন ও প্রায় একই সময়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি সুতার কারখানায়ও আগুন লাগে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় এখানকার আগুনও নিয়ন্ত্রণে আসে। তাত্ক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। আর কর্মব্যস্ততা শুরুর আগেই অগ্নিকাণ্ড ঘটায় অনেকেই হয়তো প্রাণে বেঁচে গেছেন। কিন্তু কেন ঘটছে একের পর এক এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড? কারখানা বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কোথায়? বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ার খবরে জানা যায়, বেনাপোল বন্দরের পরিচালক নিতাই চন্দ্র সেন বলেছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। অতি সাধারণ কথা। কিন্তু তিনি কি আমাদের জানাবেন, বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো কত দিন আগে পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়েছিল? ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসার আগে নিজস্ব উদ্যোগে আগুন নেভানোর কী কী চেষ্টা হয়েছিল?

টাম্পাকো ও বেনাপোলের মধ্যবর্তী সময়ে দেশের আরো কিছু কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আর শুধু কারখানায় নয়, সুউচ্চ ভবনসহ বাড়িঘরেও আগুন লাগার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর বড় কারণ অসাবধানতা। বিদ্যুতের সংযোগ পুরনো ও জরাজীর্ণ হয়ে গেলে তাতে শর্টসার্কিট হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই সেগুলো নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করা ও সংস্কার করা প্রয়োজন। গ্যাস সহজলভ্য হওয়ায় গ্যাসের আগুন আর নেভে না। তার পাশেই থাকে নানা ধরনের দাহ্য পদার্থ। ব্যক্তিগত উদাসীনতাও কম নয়। রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে যেসব সাবধানতার কথা লেখা থাকে, অনেকেই তা মেনে চলেন না। এমনকি বিড়ি-সিগারেটের আগুন থেকেও অতীতে অনেক অগ্নিকাণ্ড ঘটার প্রমাণ পাওয়া যায়। কারখানাগুলোতে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে যেসব সাবধানতা ও প্রতিরোধব্যবস্থা থাকার কথা, বেশির ভাগ কারখানায়ই তা থাকে না। কর্মীরা কিভাবে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা করবেন, কিভাবে নিজেদের রক্ষা করবেন, কিভাবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করবেন—এমন ধরনের কোনো প্রশিক্ষণই থাকে না। তেমনি মাঝেমধ্যে মহড়ার আয়োজন করা খুবই জরুরি, কিন্তু প্রায় কোথাও তা করা হয় না।

আগুনের ধর্মই হলো পোড়ানো, দাহ্য যা পাবে তাই পোড়াবে। আগুনের নিজস্ব কোনো বিবেচনাবোধ নেই। তাই ব্যবহারকারীদেরই সচেতন হতে হবে এবং সতকর্তার সঙ্গে এর ব্যবহার করতে হবে। এর অন্যথা হলে এমন সর্বনাশা পরিণতিই হবে। কারখানা ও জনবহুল স্থানে অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রস্তুতি আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর তদন্ত করে খুব একটা লাভ হয় না। তাই ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিটি কারখানা-গুদাম-জনবহুল স্থাপনার অগ্নিনিরাপত্তা যথাযথ কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।


মন্তব্য