kalerkantho


ছাত্রীদের সাহসী প্রতিবাদ

স্কুলের জায়গা দখল বন্ধ করুন

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ছাত্রীদের সাহসী প্রতিবাদ

ক্ষমতার জোরে বাড়াবাড়ি, আস্ফাালন, ক্ষমতাসীন দলের সুবিধা ভাঙিয়ে জবরদখল দেশে নতুন কিছু নয়। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কালো ছায়া বিস্তৃত হয়েছে।

এই অপচ্ছায়া অনেক সময় প্রশাসনকে অকার্যকর করে দিচ্ছে, কখনো খোদ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা রাজনৈতিক সুবিধার কাছে নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছেন। পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ও পুকুর দখল করে রাস্তা নির্মাণচেষ্টার ঘটনায় এ সবগুলো বিষয়ই ধরা পড়েছে। তবে আশার দিক হচ্ছে, এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটিরই ছাত্রীরা। তাদের সাহসী ভূমিকায় দখল আপাতত বন্ধ থাকলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃঢ় ও সাহসী ভূমিকা ও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত।

দখলবাজির এ ঘটনায় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিষয়টি আরো একবার স্পষ্ট হয়েছে। যাঁর বাড়িতে যাতায়াতের জন্য রাস্তাটি নির্মাণের অপচেষ্টা চলছে, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নির্মাণকাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁর যে ভাই, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। এ ক্ষেত্রে মেয়রের নাম ভাঙানো হচ্ছে—মেয়রও ক্ষমতাসীন দলের জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।

ছাত্রীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসক বিদ্যালয়ের মাঠ ও পুকুর দখল হওয়া রুখতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। এই অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত। জেলা প্রশাসক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদেরও সভাপতি। তাঁর কাছ থেকে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাই প্রত্যাশিত ছিল। আওয়ামী লীগ নেতার নাম শুনে সরকারি কর্মকর্তাদের ভড়কে যাওয়ার খবর নতুন কিছু নয়। এমন নতজানু আমলাতন্ত্র জাতীয় অগ্রগতির পথে বড় বাধা হিসেবেই কাজ করে।

প্রতিবাদকারী ছাত্রীরা বলেছে, শিক্ষকরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা ডিসি ও মেয়রের কাছে ছুটে যান। এ রকম উজ্জ্বল, সাহসী দৃষ্টান্ত এখন সময়ের দাবি। নারীর ক্ষমতায়নে দেশ অনেক দূর এগোলেও আজও অসংখ্য নারী ঘরে-বাইরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডালিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মরিয়ম, চট্টগ্রামের শেলি সাম্প্রতিক কিছু নামই শুধু নয়, তাঁরা দেশের হাজারো নির্যাতিত কিশোরী, তরুণী বা নারীর প্রতিনিধিত্ব যেন করছেন। এখনো ঘরে-বাইরে নারী সহিংসতার শিকার হচ্ছে। মেয়েরা শুধু ইভ টিজিংয়ের শিকারই হচ্ছে না, খুন হতে হচ্ছে কাউকে কাউকে। জোর করে তাদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাল্যবিয়ে মিলিতভাবে রুখে দেওয়ার দাবি উচ্চারিত হলেও প্রতিবাদ দৃশ্যমান নয়। নারীদের বিরুদ্ধে এই সামাজিক অনাচার বন্ধ তখনই হতে পারে, যখন নারীরা প্রতিবাদে একাট্টা হবে। তখন সমাজও তাদের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।

পটুয়াখালীর বালিকা বিদ্যালয়ের এক ইঞ্চি জায়গাও বেহাত হওয়া চলবে না। যে ছাত্রীরা স্কুলের জায়গা দখলের প্রতিবাদে সামনে এসেছে, তাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দলবাজির নায়ক আওয়ামী লীগ নেতা কালের কণ্ঠ’কে বলেছেন, দখল সাময়িক বন্ধ রয়েছে। জবরদখলের অপচেষ্টা যে থেমে নেই—তার এই কথায় স্পষ্ট। শুধু প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া থাকলেই এ ধরনের আস্ফাালন সম্ভব। এর বিহিত হতে হবে। আমরা শুধু পটুয়াখালী নয়, দেশজুড়ে বিস্তৃত এ-জাতীয় সব অপচ্ছায়ার শেষ দেখতে চাই।


মন্তব্য