kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বন্দরে অচলাবস্থার অবসান

অর্থনীতির ক্ষতি কোনোভাবেই কাম্য নয়

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অবশেষে প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ তাদের ধর্মঘট ৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে। গত সোমবার থেকে এই ধর্মঘট চালিয়ে আসছিল তারা।

রবিবার থেকে চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল। এই ধর্মঘটের কারণে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চার দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৩ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য আটকা পড়ে। এর মধ্যে তিন হাজার কোটি টাকার পণ্যের জাহাজীকরণের সময়সীমা অতিক্রম করেছে। ধর্মঘট স্থগিত করার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে আবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বন্দরের মোট কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৩৬ হাজার ৩৫৭। ধর্মঘটের কারণে সেখানে ৪০ হাজার ২৫৯টি কনটেইনার জমে যায়। এই অতিরিক্ত কনটেইনারের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ।

প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ধর্মঘটের মূল কারণ নির্ধারিত পরিমাণ ওজন পরিবহনে বাধ্য করা। মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ির অতিরিক্ত চাপ কমাতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১৬ আগস্ট গাড়িভেদে পণ্য পরিবহনের ওজন নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাতে ১৪ চাকার প্রাইম মুভারকে সর্বোচ্চ ৩৩ টন পর্যন্ত মালামাল পরিবহনের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এর বেশি ওজনের পণ্য পরিবহন করলে এসব যানবাহনকে জরিমানা করা হচ্ছিল। প্রজ্ঞাপন স্থগিত ও জরিমানা আদায় বন্ধ করার দাবিতে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ধর্মঘটের ডাক দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯৭ শতাংশ পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আনা-নেওয়া করা হয়। ধর্মঘটের কারণে কনটেইনার পরিবহন বন্ধ থাকায় অনেক পণ্যবাহী জাহাজ পণ্য না নিয়ে ফেরত গেছে। আবার কনটেইনার খালাস করতে না পারায় অনেক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

প্রাইম মুভার ট্রেইলারের ওজন বেঁধে দেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখার প্রয়োজন ছিল। ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কনটেইনার ২৪ টন পর্যন্ত পণ্য বহন করতে পারে। অন্যদিকে ট্রেইলার ও প্রাইম মুভার গাড়ির ওজন ১২ টন। সব মিলিয়ে ওজন দাঁড়ায় ৩৬ টন। আগামী ৪ অক্টোবরের বৈঠকে একটি সমঝোতায় আসা জরুরি। অতিরিক্ত ওজনের পণ্য পরিবহনে সড়ক-মহাসড়ক ও সেতুর স্থায়িত্ব কমে যায়। কাজেই অতিরিক্ত মুনাফা নয়, দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে একটি সমাধানে আসতে হবে। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে এমন কোনো কর্মসূচি কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে না। জিম্মি করে কোনো দাবি আদায়ের পথটিও ত্যাগ করতে হবে।


মন্তব্য