kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পরীক্ষার নম্বর পুনর্বণ্টন

শিক্ষার্থীদের নিয়ে গবেষণা বন্ধ করুন

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যারা অংশ নেবে, তাদের নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হবে আগামী মাস থেকে। এর আগে এসএসসি ও এইচএসসির এমসিকিউ বা বহু নির্বাচনী প্রশ্ন থেকে ১০ নম্বর কমিয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে যোগ করা হয়েছে।

এখন থেকে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল অংশে একটি প্রশ্নের উত্তর বেশি লিখতে হবে। এ জন্য এমসিকিউ অংশের উত্তর লেখার সময় থেকে ১০ মিনিট সময় কেটে সৃজনশীল অংশের উত্তর লেখার সময়ের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্ন পদ্ধতি পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে শিক্ষা প্রশাসন বলছে, এতে শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে পরীক্ষার আগে এসে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সৃজনশীল পদ্ধতির পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা যখন প্রবর্তন করা হয় তখন থেকেই এটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছিল; যদিও এই পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। মুখস্থ বিদ্যা উগরে দেওয়া থেকে মুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতার ছাপ রাখতে পারবে, এমনই ভাবা হয়েছিল। কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থায় জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ও পাসের হার বাড়লেও শিক্ষার মান তাতে কতটা উন্নত হয়েছে, এ প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় সৃজনশীল পদ্ধতি প্রচলনের আগে শিক্ষকদের তৈরি করা প্রয়োজন ছিল। সৃজনশীল পদ্ধতির সঙ্গে দেশের সব শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার আগেই পদ্ধতি চালু করা হয়। এখনো শতভাগ শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছেন এমন কথা বলা যাবে না। সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়েও নানা প্রশ্ন আছে।

এমসিকিউ পদ্ধতি আমাদের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার জায়গাটিকে সংকুচিত করে ফেলেছে, এমন মনে করারও যথেষ্ট কারণ আছে। অনেক শিক্ষার্থীই এমসিকিউয়ের উত্তরের বাইরে নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে না। এর পরও নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই নেওয়া ভালো। তাতে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি থাকে। বছরের একেবারে শেষে এসে, বিশেষ করে পরীক্ষার আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটুকু যুক্তিসংগত হয়েছে, তা ভেবে দেখা দরকার।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ গবেষণা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ করা উচিত বলেই আমরা মনে করি।


মন্তব্য