kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পর্যটন বর্ষের অর্জন কী

অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ান

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পৃথিবীর বহু দেশের সমুদ্রসৈকত নেই, ম্যানগ্রোভ বন নেই। পাহাড়, ঝরনা, ঐতিহ্যবাহী মসজিদ-মন্দিরেরও দেখা মেলে না অনেক দেশে।

সেসব ভূখণ্ডের মানুষের ভ্রমণের অন্যতম কেন্দ্র হতে পারত বাংলাদেশ। যথেষ্ট পর্যটন স্পট থাকার পরও সুযোগ কাজে লাগাতে পারছি না আমরা। দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যে সরকার ২০১৬ সালকে ‘পর্যটন বর্ষ’ ঘোষণা করে। নির্ধারণ করা হয় ১০ লাখ পর্যটক আনার লক্ষ্য। লক্ষ্য পূরণ হবে কি? ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রচারই শুরু হয়নি। পর্যটন খাতের এই চিত্র আমাদের হতাশ করে।

অবকাঠামোগত সমস্যা আমাদের রয়েছে। কিন্তু নীতিনির্ধারকরা আন্তরিক হলে এবং দক্ষতা-পেশাদারির সঙ্গে পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে বাধাগুলো উতরানোর কাজটি কঠিন হওয়ার কথা নয়। পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করে যদি অলসই বসে থাকব—দিস্তা দিস্তায় নথিপত্র তৈরি করা বা ঢাকঢোল পেটানোর দরকার কী! পর্যটন সেবাসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্যান্য দেশে দু-তিন বছর প্রস্তুতি নিয়ে তারপর পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করা হয়। ফলে অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন বাড়ে, উন্নত পরিষেবা দেওয়ার নিশ্চয়তাও তৈরি হয়। কিন্তু আমাদের এখানে কেন সে ধরনের কোনো প্রস্তুতি না নিয়েই বর্ষ ঘোষণা করা হলো?

পর্যটন বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও অন্যতম খাত। বিদেশিদের আগমন আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ব্যবসাকে চাঙ্গা করে, কর্মসংস্থান বাড়ে। সারা বিশ্বে ছড়ায় দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি। আমরা লোভনীয় অনেক পর্যটন স্পট থাকার পরও সুযোগটি কাজে লাগাতে কেন পারছি না, তা অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। যাতায়াত সমস্যা, নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি, অব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন বিষয় পর্যটনশিল্পের বাধা হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু এমন তো নয় যে বাধাগুলো দূর করা অসম্ভব!

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানসম্মত করা, কক্সবাজারের সাবরাংয়ে বিশেষ ট্যুরিস্ট জোন স্থাপন ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের কাজ শুরু, মেরিন ড্রাইভের সম্প্রসারণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ রয়েছে। সব পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার। আমাদের প্রত্যাশা, পর্যটন খাত বিকাশে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করবে।


মন্তব্য