kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিক্ষাঙ্গনে জঙ্গি তৈরি

সবাইকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গিবাদের সঙ্গে শুধু মাদ্রাসার শিক্ষার্থী কিংবা দরিদ্র শ্রেণি জড়িত—এমন ধারণা পাল্টে যায় গুলশান হামলার পর। গুলশান, শোলাকিয়া, কল্যাণপুর, আজিমপুর ও নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় হতাহত ও সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অনেক উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানও জঙ্গি-সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ছে।

তাদের মধ্যে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণরাও রয়েছে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অনেক শিক্ষককেও এরই মধ্যে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই ও জঙ্গিবাদে উৎসাহিত করার অভিযোগ আছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ঢাকার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল যেমন আছে, তেমনি রয়েছে কিছু ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে।

জঙ্গিবাদ আজ এক বৈশ্বিক সমস্যা। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ছাপিয়ে জঙ্গিবাদ এখন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও তুরস্কে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় বোকোহারাম একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। স্কুল-কলেজে হামলা চালিয়ে শত শত মেয়ে শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কেনিয়া, সোমালিয়ায় আল শাবাবের নিষ্ঠুর হামলায় শত শত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। হামলার ঘটনা ঘটছে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এরই মধ্যে বেশ কিছু জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। মুসলমানপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও তার ঢেউ এসে লাগবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হলে কঠোরভাবে এই ঢেউ মোকাবিলা করতে হবে। বর্তমান সরকার জঙ্গি দমনে আন্তরিক হলেও আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সক্ষমতায় এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে। দ্রুত এসব ঘাটতি দূর করতে হবে। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, শুধু সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেষ্টায় জঙ্গিবাদ দমন করা যাবে না, যদি না সমাজ এগিয়ে আসে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে শিক্ষা, মেধা ও মনন বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। জঙ্গিবাদের মোহ ও বাস্তবতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে হবে। অভিভাবকদেরও আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। সর্বোপরি দেশের প্রত্যেক মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জঙ্গিবাদবিরোধী ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সীমান্তবর্তী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। দিন দুয়েক আগে ভারতে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবির ছয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশি। এ ছাড়া অতীতে দেখা গেছে, দুই দেশের জঙ্গিদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহায়ক হতে পারে। আমরা চাই, জঙ্গিবাদের নিষ্ঠুর ও ধ্বংসাত্মক থাবা থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক।


মন্তব্য