kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কর্মকর্তাদের তেলবিলাস

অনিয়ম রোধে পদক্ষেপ নিন

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা মহানগরকে দক্ষিণ ও উত্তর—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। তার মধ্যে আদি ঢাকার অবস্থান মূলত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বা ডিএসসিসিতে।

এখানে নাগরিক সেবার মান কতটা উন্নত হয়েছে তা ভুক্তভোগী নাগরিকরাই ভালো বলতে পারবেন। বাহ্যত তেমন কোনো উন্নয়ন দৃশ্যমান নয়, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবনতিই চোখে পড়ে। অনেক রাস্তায়ই হোঁচট খেতে খেতে চলতে হয়। যানজট আগের মতোই আছে। পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিরও উন্নতি চোখে পড়ে না। পয়ঃপ্রণালীর অবস্থা ক্ষেত্রবিশেষে খারাপ হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে জল-ময়লা একাকার হয়ে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছে। তাহলে মহানগরকে ভাগ করার সার্থকতা কোথায়—এমন প্রশ্ন এখন অনেকেই করছেন। এদিকে নাগরিক সেবার মান না বাড়লেও সরকারের ব্যয় অনেক বেড়েছে। দুই সিটি করপোরেশনে লোকবল অনেক বেড়েছে। তাদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা অনেক বেড়েছে। বেড়েছে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ডিএসসিসি কর্মকর্তাদের গাড়িতে তেলের অপচয় চরমে উঠেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত ভ্রমণে সরকারি তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ঈদ-পার্বণে গ্রামের বাড়ি যাওয়া কিংবা পরিবার নিয়ে পাহাড়ে ভ্রমণ করতে গেলেও সরকারি তেল ব্যবহার করা হয়। জনপ্রতি প্রতিদিন তেল ব্যবহারের নির্ধারিত কোটা থাকলেও খুব কম কর্মকর্তাই তা মেনে চলেন। কারো কারো বিরুদ্ধে কোটার কয়েক গুণ তেল ব্যবহারের অভিযোগ আছে। আছে তেল বিক্রির অভিযোগও। অতিরিক্ত তেল ব্যবহার নিয়ে গত বছর ২৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকার অডিট আপত্তি উঠেছে। অন্যদিকে তেল ব্যবহারে বাজেট বরাদ্দ ক্রমে বেড়েই চলেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ডিএসসিসির বাজেটে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বরাদ্দ ছিল ৬৪ কোটি টাকা, সেটি সংশোধিত বাজেটে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ৬৭ কোটি ২৫ লাখ টাকায়। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৯ কোটি টাকা, বেড়েছে ১৫ কোটি টাকারও বেশি। সেবার মান না বাড়িয়ে ডিএসসিসির তেলবিলাস বৃদ্ধিকে মানুষ ভালো চোখে দেখছে না।

অনেক দিন পর দুজন নির্বাচিত মেয়র পেয়ে ঢাকাবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। নির্বাচিত হওয়ার আগে মেয়র প্রার্থীরাও মানুষকে অনুরূপ বহু আশার কথা শুনিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান মেয়রদের তৃতীয় বছরে এসেও মানুষ কেবল হতাশই হচ্ছে, বিশেষ করে দক্ষিণের বাসিন্দারা। সেখানকার অনেকের মতে, তাঁরা উপদেশ ছাড়া তেমন কিছুই পাচ্ছেন না। আমরা আশা করি, নগরবাসীর সেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে তেলবিলাসের মতো বাহুল্য খরচগুলো কমানো প্রয়োজন।


মন্তব্য