kalerkantho

26th march banner

দ্বন্দ্বমুখর আওয়ামী লীগ

দলে শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা সব সময় বেশি। দলীয় নেতাকর্মীর বাইরে আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থকের সংখ্যাও কম নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটি ২০০৯ সাল থেকে সরকারে রয়েছে। কিন্তু দলটির ভেতরের কোন্দল চাপা রাখা যাচ্ছে না। এমন কোনো জেলা কিংবা উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে আওয়ামী লীগের একাধিক উপদল নেই। উপদলীয় কোন্দলে পারস্পরিক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়নি এমন কোনো জেলাও বোধ হয় পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারীদের আধিপত্য। দলের ভেতরে তাদের বলা হচ্ছে ‘হাইব্রিড’। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় আসা দলটি সাংগঠনিকভাবে আগের অবস্থায় আছে কি না, সে প্রশ্ন এখন সবার মনে।

জেলা-উপজেলায়, এমনকি ইউনিয়ন ও গ্রামপর্যায়ে পারস্পরিক সংঘর্ষে লিপ্ত আওয়ামী লীগের একাধিক গ্রুপ। আগামী দুই বছরের মধ্যে আরো একটি সাধারণ নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী মাসে দলের অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিল অধিবেশন সামনে রেখে চলছে জোর প্রস্তুতি। বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন, তাঁদের দলে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা হয়েছে। দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঠিক এ সময়ে আওয়ামী লীগের এই উপদলীয় কোন্দল দলের জন্য কোনো শুভ বার্তা বহন করে না। পত্রিকান্তরে বেশ কিছুদিন ধরে যে খবর আসছে তাতে ঐতিহ্যবাহী এই গণতান্ত্রিক দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতার নানা বিষয় সামনে চলে এসেছে। গতকাল সংবাদমাধ্যমে দুটি খবর সবারই দৃষ্টি কেড়েছে। কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদ থেকে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হককে অব্যাহতি দিতে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। এখানেও বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মন্ত্রীর মতপার্থক্যের খবর এসেছে। কুষ্টিয়ায় যে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, এই দুই গ্রুপের একজন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। অন্যজন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।

গণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। উপদলীয় কোন্দল দূর করে দলীয় আদর্শে বিশ্বাসীদের সমন্বয় ঘটাতে হবে। আমরা আশা করব, আওয়ামী লীগের দূরদর্শী নেতৃত্বের সঠিক নির্দেশনা দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শৃঙ্খলায় আনবে।


মন্তব্য