kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মশাবাহিত রোগ বাড়ছে

নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৯ মাসে শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিসাবেই ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ৭৫৭ জন। মারা গেছে ছয়জন।

অনেক অসচেতন পরিবার রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে না। তাই বলা যায়, প্রকৃত সংখ্যাটি হবে আরো বেশি। শুধু ডেঙ্গু নয়, বাংলাদেশে ছয় ধরনের মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে মশার কারণে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে এডিস এজিপ্টি, কিউলেক্স ও অ্যানোফিলিস—এই তিন জাতের মশা অন্তত ৯টি রোগের বাহক। তাই বাকি তিনটি রোগও মশার মাধ্যমে বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এত বড় ঝুঁকি থাকার পরও আমাদের সতর্কতা আছে সামান্যই।

বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় ঢাকা বিশ্বে অন্যতম। প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষের এই শহরটির ব্যবস্থাপনায় রয়েছে একাধিক কর্তৃপক্ষ। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন নিয়ে অভিযোগের অভাব নেই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিটি করপোরেশন মশার ওষুধ খাতে কম অর্থ বরাদ্দ পায় না। কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে কয় টাকার ওষুধ তারা ছিটায়? ভেজাল বা পানিমিশ্রিত ওষুধ ছিটানোর কথাও শোনা যায় মাঝেমধ্যে।

সাধারণ মানুষও কি সচেতন? জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা ডিম পাড়ে ও দ্রুত বংশবিস্তার ঘটায়। আর আমরা যত্রতত্র ডাবের খোসা, ফুলের টব, পলিথিনসহ নানা জিনিস রেখে বা ফেলে সে সুযোগ করে দিচ্ছি। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার ব্যর্থতা আমাদের স্বীকার করতেই হবে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান—আইইডিসিআর বলছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে অনেকেরই ডেঙ্গু ধরা পড়ছে। এর মধ্যে ঢাকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। আমাদের রাজধানী একটি মেগাসিটি। মানুষের তুলনায় চিকিৎসা অবকাঠামো এখানে পর্যাপ্ত নয়। এখন কোনো কোনো পরিবারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে। ঘরে ঘরে এই জ্বর ধরা পড়া শুরু হলে তা আমরা কিভাবে সামাল দেব?

বহু দেশে জিকা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা গোটা বিশ্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন। সিঙ্গাপুরে অন্য দেশের নাগরিকদের সঙ্গে ১০ জনের বেশি বাংলাদেশি জিকায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিমানবন্দরে কড়া সতর্ক ব্যবস্থা গলিয়ে জিকার রোগী দেশে ঢুকে পড়বে না তার নিশ্চয়তাই বা কতখানি! বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত সামনে রেখে সমন্বিত জরুরি উদ্যোগ নেওয়া না গেলে ২০২০ সালের মধ্যে দেশকে ম্যালেরিয়ামুক্ত করার লক্ষ্যও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। পরিস্থিতি যে পর্যায়ে রয়েছে, সরকারি-বেসরকারি দুই স্তরেই সচেতনতা বাড়াতে হবে।


মন্তব্য