kalerkantho


বেহাল প্রাথমিক শিক্ষা

মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ জরুরি

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বেহাল প্রাথমিক শিক্ষা

বছরের শুরুতে বিনা মূল্যে বই ও শিক্ষাপঞ্জি, উপবৃত্তি দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়েছে। কমেছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বেড়েছে পাসের হার। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষার মান এখন পর্যন্ত আশানুরূপ না হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষকের অভাব। এখন চাকরির শুরুতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষকের বেতন প্রায় ১৭ হাজার টাকা। নিজের বাড়িতে থেকেই প্রাথমিক শিক্ষকরা চাকরি করার সুযোগ পান। অনিয়ম-দুর্নীতি প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছে। এখানে এখন পর্যন্ত মেধাবীদের আকৃষ্ট করা যায়নি। কোনো সরকারি চাকরি না পেয়ে যেমন অনেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন, তেমনি টাকা ঢেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার উদাহরণও কম নেই। প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়ানো ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যে কর্মকর্তাদের হাতে তাঁরাও কমবেশি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। জালিয়াতির মাধ্যমে অমেধাবীরা চাকরি পাচ্ছে, ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন কোটার জাল সনদ—এমন অনেক খবর বেরিয়ে এসেছে কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

শিক্ষার প্রথম ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। কিন্তু আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের সরকারীকরণ করেছিলেন। শিক্ষা বিস্তার ও শিক্ষকদের মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। বর্তমান সরকারের আমলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে তিনটি বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের মর্যাদা তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডও একধাপ উন্নীত হয়েছে। আগের তুলনায় বেতন দ্বিগুণ হলেও শিক্ষার মান সে অর্থে একেবারেই বাড়েনি। শিক্ষকের মান না বাড়লে যে শিক্ষার মান বাড়বে না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে ইউনেসকোর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের অভাবেই বাংলাদেশে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হচ্ছে না। এমনকি প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো। প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কিন্তু বর্তমান শিক্ষকদের বেশির ভাগই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াতে পারবেন না। তাঁদের সে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা নেই। কাজেই প্রাথমিক শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে একেবারে গোড়ায় হাত দিতে হবে। যোগ্য ও মেধাবীদের প্রাথমিক শিক্ষায় নিয়োগ দিতে হবে। অন্যদিকে জাল সনদ কিংবা টাকা ঢেলে যাঁরা শিক্ষক হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করা না গেলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা কোনো দিনই মানসম্মত হবে না। টেকসই উন্নয়নের প্রথম শর্ত মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।


মন্তব্য