kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কর্মকর্তাদের ভ্রমণবিলাস

এই অপচয় রোধ করতে হবে

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি কাজে কর্মকর্তারা বিদেশ সফর করতে পারেন। ক্ষেত্রবিশেষে কিছু বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যও বিদেশে যেতে হয়।

কোনো একটি বিষয়ে বারবার বিদেশ সফর কাম্য হতে পারে না। যে অভিজ্ঞতা একবার অর্জিত হয়েছে, দেশে বসেই তা কাজে লাগানো সম্ভব। সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে অনেক কিছু বিদেশ থেকে কিনতে হয়। অতীতে এসব জিনিস বিদেশ থেকে দেখে এসে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও তা রেওয়াজ হওয়ার কথা নয়। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ‘শিডিউল অব রেটস’-এর নামে এটাকেই রেওয়াজ বানিয়ে ফেলেছেন। সরকারি বিভিন্ন ভবনে লিফট লাগানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলীরা। তাঁদের এ ভ্রমণবিলাস জায়েজ করতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও ভ্রমণসঙ্গী করছেন তাঁরা। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের দুই প্রকৌশলী যাচ্ছেন স্পেনে। স্পেন ও সুইজারল্যান্ডে আলাদা সফরে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের চার প্রকৌশলী ও মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা। এর আগে বিদেশ ভ্রমণ করে এসেছেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী।

সরকারি কেনাকাটায় ইচ্ছা করলেই দেদার টাকা খরচ করা যায় না। কিন্তু আমাদের দেশের কর্মকর্তারা লিফট কেনার নামে যেভাবে বিদেশ ভ্রমণে মেতে উঠেছেন—এটাকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বলতে হবে। যেকোনো বড় কেনাকাটার আগে বিদেশে গিয়ে দুই-চারজন দেখে এলেই লিফট সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে আসতে পারেন। একাধিক কাজের লিফট কেনার জন্য একাধিকবার, একাধিক কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ কেন জরুরি, তা আমাদের বোধগম্য নয়। ধারণা করা যেতে পারে, কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকদাররাও নিয়ে থাকেন। বিশেষ করে মাত্র দুটি লিফটের জন্য একাধিক কর্মকর্তা বিদেশ ভ্রমণে গেলে বিষয়টি দৃষ্টিকটু লাগবেই। যে লিফট বারবার আনা হচ্ছে, তা দেখতে বারবার বিদেশ ভ্রমণ এত জরুরি কেন? ধারণা করা যেতে পারে, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কাজে এখন পর্যন্ত স্বচ্ছতা আসেনি বলেই কর্মকর্তারা এ সুযোগ নিতে পারছেন। লিফট কেনার জন্য কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচের কোনো যুক্তি আছে বলে মনে হয় না।

কর্মকর্তাদের এই বিদেশ ভ্রমণ নিতান্তই রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বলে মনে করি আমরা। এই অপচয় অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। ‘শিডিউল অব রেটস’ জাতীয় নিয়ম অন্য কোনো সরকারি দপ্তরে থাকলে তা বন্ধ করে স্বচ্ছতা আনতে হবে। আমরা আশা করব সব ধরনের অপচয় বন্ধ হবে।


মন্তব্য