kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গি দমনে আংশিক সাফল্য

পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গি দমনে আংশিক সাফল্য

গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর পুলিশ কিছুটা গা ঝাড়া দিয়ে জঙ্গি দমনে নামে। আর তাতেই অনেক সাফল্য আসে।

একের পর এক জঙ্গিদের আস্তানা খুঁজে পায় পুলিশ। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন জঙ্গি নিহত হয়, গ্রেপ্তারও হয় অনেকে। ফলে জঙ্গি হামলার যে ভয়ংকর ধারা শুরু হয়েছিল, তা বন্ধ হয়। এটি নিঃসন্দেহে পুলিশ বাহিনীর একটি বড় সাফল্য। একই সঙ্গে ব্যর্থতার পাল্লাও কম ভারী নয়। নেতৃস্থানীয় ২২ জন জঙ্গির তথ্য নানাভাবে উঠে এসেছে, যারা জঙ্গি সংগঠনে ‘বড় ভাই’ হিসেবে পরিচিত, তাদের পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আবার নিখোঁজ ব্যক্তিদের যে চূড়ান্ত তালিকা পুলিশ করেছে, তাদেরও বেশির ভাগের সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই পুলিশের কাছে। জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে অতীতে গ্রেপ্তার হওয়া অনেকে পরবর্তী সময়ে জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছে। তাদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পুলিশ যথেষ্ট ওয়াকিবহাল নয়। স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা হয়, আরো অনেক জঙ্গি সারা দেশে ছড়িয়ে আছে, তারা যেকোনো সময় আরো হামলা চালাতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের আরো আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান সময়ে জঙ্গিবাদ এক বৈশ্বিক সমস্যার রূপ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশের কিছু ধনী নাগরিক জঙ্গিবাদে অর্থের জোগান দিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানসহ কিছু দেশের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে মদদ দেওয়ার অভিযোগ আছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা হিসাব-নিকাশও জড়িত রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদ একেবারে নির্মূল হয়ে যাবে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। তাই বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই। নিরাপত্তাব্যবস্থার ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে জঙ্গি অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অতীতে পুলিশের সর্বশেষ সার্কুলারের ফটোকপিও পাওয়া গেছে জঙ্গি আস্তানায়। এমন হলে জঙ্গি দমনের কাজটি অনেক কঠিন হয়ে যাবে। পুলিশের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায়, কোনো একটি ঘটনা ঘটার পর প্রযুক্তির সহায়তায় অতি দ্রুত সন্ত্রাসীর অবস্থান চিহ্নিত করে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়। বিমান, বাস, ট্রেন, লঞ্চ স্টেশনসহ যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ছবি দ্রুত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের গতিবিধির তথ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশের পুলিশকেও সেভাবে দক্ষ করে তুলতে হবে। তবে সবার আগে প্রয়োজন হবে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিকতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধকে শক্তিশালী করা। অভিযোগ আছে, বহু পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালনের চেয়ে অবৈধ উপার্জনের প্রতি বেশি আন্তরিক থাকে। এমনটি হলে সেই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে কখনো পেশাগত দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যাবে না।

আমরা আশা করি সরকার পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করবে। পাশাপাশি দুষ্ট গরু দিয়ে গোয়াল ভরে না রেখে শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত এই বাহিনী থেকে বিদায় করবে। জনগণের অর্থে পরিচালিত পুলিশ বাহিনী জননিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে জঙ্গি দমনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দেবে—এমনটাই প্রত্যাশিত।


মন্তব্য