kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল

নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



উচ্চশিক্ষা থেকে প্রাথমিক—সব পর্যায়েই শিক্ষা এখন বাণিজ্যিক পণ্য হয়ে গেছে। এই সুযোগে দেশজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান।

এর মধ্যে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম নয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো নীতিমালাও নেই। নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নেই। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে কোন কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে তা নিয়েও কারো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। তাতে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য সন্নিবেশিত হয় না। সারা দেশের প্রায় ৩৫০টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের তিন লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী কী পড়ছে তা জানে না শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের এ উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় চলছে অরাজকতা। বছরের শুরুতে সব স্কুলের বেতন বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়মনীতি নেই। কর্তৃপক্ষের ইচ্ছার ওপর সব কিছু নির্ভরশীল। শুধু বছরের শুরুতে নয়, অন্যান্য সময়ও যেসব ফি আদায় করা হয় তার জন্য কারো কাছে কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। সরকারের নজরদারি না থাকায় ক্রমেই বাড়ছে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে এসব স্কুলের কার্যক্রম। অথচ দেশের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোর জন্য নীতিমালা প্রণয়নে ২০১৩ সালে হাইকোর্ট নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। আদালতের নির্দেশনার পর নীতিমালা তৈরির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হলেও সেই কমিটি এখন পর্যন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি। এই তিন বছরে দেশে নতুন নতুন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন, পুরনো সব স্কুলই বছর বছর টিউশন ফি বাড়িয়েছে। কোনো প্রতিকার নেই। আদালতের নির্দেশনার পরও যদি একটি নীতিমালা তৈরিতে তিন বছর কেটে যায়, তাহলে সেই নীতিমালা কার্যকর হবে কবে?

২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থা সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে পরিচালিত হবে, এমন কথা বলা আছে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে চলার বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ইংরেজি মাধ্যমের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না, জাতীয় সংগীত গাওয়া হয় না, এমন অভিযোগ রয়েছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা উচিত। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


মন্তব্য