kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক সমস্যা

সম্মিলিত ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক সমস্যা

জঙ্গিবাদ আজ এক বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশ্বের কোনো প্রান্তই জঙ্গি হামলার আশঙ্কা থেকে মুক্ত নয়।

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলো ছাপিয়ে এ হামলা ছড়িয়ে পড়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, তুরস্ক, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ উন্নত বিশ্বেও। বাংলাদেশও জঙ্গি হামলার আশঙ্কামুক্ত নয়। বিশেষ করে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পর বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা এক নতুন মাত্রা পায়। এ অবস্থায় জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বলা যায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। সাফল্যও এসেছে। মূল হোতা হিসেবে পরিচিত অনেক জঙ্গিই হয় নিহত হয়েছে, না হয় ধরা পড়েছে। বাংলাদেশের এ সাফল্যের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এই বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে একাট্টা হয়ে কাজ করার জন্য। কোনো রাষ্ট্র বা শক্তি যেন অর্থ, অস্ত্র কিংবা প্রশিক্ষণ দিয়ে জঙ্গিদের সহায়তা না করতে পারে তা নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তিনি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়া আরো অনেক নেতাই একই সুরে কথা বলেছেন। আমরাও মনে করি, বৈশ্বিক এ সমস্যাকে বৈশ্বিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে।

জঙ্গিরা মুখে ইসলামের কথা বললেও তারা যে প্রকৃত অর্থে ইসলামের ক্ষতি করছে এবং বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে—ইসলামী পণ্ডিতরা বারবার সে কথা তুলে ধরছেন। এর পরও প্রকৃত ইসলামী শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত কিছু মুসলমানের ধর্মীয় আবেগকে ভুল বুঝিয়ে ভুল পথে পরিচালিত করছে জঙ্গিরা। তাই জঙ্গি সমস্যার সমাধানে বৈশ্বিক উদ্যোগের পাশাপাশি মুসলমানপ্রধান দেশগুলোকেও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বব্যাপী ইসলাম ধর্মের ক্ষতি রোধ করতে হবে। অন্যদিকে জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা কোনো সীমানা মানে না। তারা এক দেশে হামলা চালিয়ে আরেক দেশে গিয়ে আশ্রয় নেয়। বিভিন্ন দেশের জঙ্গিদের মধ্যে নেটওয়ার্ক থাকে। পরস্পর পরস্পরকে নানাভাবে সহায়তা করে। তাই জঙ্গিদের কার্যকরভাবে দমন করতে হলে জঙ্গিবিরোধী আঞ্চলিক উদ্যোগও এগিয়ে নিতে হবে। তথ্য আদান-প্রদান ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে জোরদার ভূমিকা পালন করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিজেদের স্বার্থেই এমন একটি শক্তিশালী সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অতীতে বহুবার বহু ফোরামে এ ধরনের উদ্যোগ ও সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

মুসলমানপ্রধান একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মানুষকেও মনে রাখতে হবে, ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ যেসব দেশে রয়েছে, সেসব দেশ ক্রমেই ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলেছে। ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, এমনকি পাকিস্তানও একসময় অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ ছিল। জঙ্গিবাদের উত্থান সেসব দেশের অর্থনীতিকে আজ কোথায় নিয়ে গেছে, সেসব দেশের মানুষের দুর্দশা আজ কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে, লাখ লাখ মানুষ কেন বাড়িঘর ফেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে—তা একটু অনুসন্ধান করলেই জানা যাবে। এমন ভয়ংকর অপশক্তিকে বাংলাদেশে শিকড় গাড়তে দিলে আমাদের পরিণতিও একই রকম হবে। আমরা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান চাই না। আমরা বৈশ্বিকভাবেও জঙ্গিবাদের অবসান চাই। আর সে লক্ষ্যে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ সমন্বিতভাবে এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশিত।


মন্তব্য