kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইভ টিজিং প্রতিরোধ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও ভূমিকা নিতে হবে

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সামাজিক ব্যাধি ইভ টিজিং আবার সংক্রমিত হতে শুরু করেছে। ঢাকায় স্কুল ছাত্রী রিশা, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী নিতু বখাটেপনার শিকার হয়েছে।

সাম্প্র্রতিক এই দুটি ঘটনা মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বখাটেরা কত নিষ্ঠুর হতে পারে, অতীতে তার অনেক উদাহরণ আছে। রিশা বা নিতু হত্যাকাণ্ড নবতর সংযোজন। ইভ টিজিং বন্ধে একটি নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা চেয়ে ২০১১ সালে উচ্চ আদালতে করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা নির্দেশনায় ইভ টিজিংকে যৌন হয়রানি হিসেবে চিহ্নিত করে যথাযথ আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছিল। বর্তমান সময়ে সমাজ-মানসিকতার যে অবনতি হয়েছে, তাতে ইভ টিজিং যে একধরনের যৌন সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা পেতে অনেক মেয়েকেই আত্মহননের পথ বেছে নিতে হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে মা-বাবা-অভিভাবক তথা শিক্ষককেও। কোনো একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর প্রতিবাদ হয়, কোথাও কোথাও মানববন্ধন হয়। কিন্তু আবার সেই আগের চেহারায় ফিরে আসে বখাটেরা।

আমাদের সামাজিক পরিসরে নারী ও কিশোরীরা হরহামেশাই কটু মন্তব্য, লোলুপ চাহনি, হয়রানি ও নিগ্রহের শিকার হয়। অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েরা এসব কথা প্রকাশ করতে চায় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার মেয়েদেরই দোষারোপ করা হয়। ইভ টিজিং বা যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কমিটি করার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু স্কুল বা কলেজে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়নি। ফলে ইভ টিজিং প্রতিরোধে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ স্কুল-কলেজ পর্যায়েই ইভ টিজিংয়ের ঘটনা ঘটছে বেশি। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও দায়িত্ব নিতে হবে। ইভ টিজিং প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে করণীয় নির্দিষ্ট করে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে নিজেদের করণীয় ঠিক করে নিতে পারে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে ইভ টিজিং প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটনা লুকিয়ে রাখার প্রবণতা কমবে। প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করা সহজ হবে। আমরা আশা করব, ইভ টিজিং প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


মন্তব্য