kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আগামী নির্বাচন কমিশন

যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হোক

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আগামী নির্বাচন কমিশন

নির্ধারিত মেয়াদের পর নির্বাচন হলে তা হবে ২০১৯ সালে। এখনো দুই বছরের বেশি সময় বাকি।

তা সত্ত্বেও নির্বাচনের পালে একটু একটু করে হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। আর তা সবচেয়ে বেশি গতি পেয়েছে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর একটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আইনমন্ত্রী বলেছেন, পরবর্তী নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হবে সার্চ কমিটির মাধ্যমে। বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, বর্তমান কমিশনের মতো ‘গৃহপালিত’ নির্বাচন কমিশন হলে তাঁরা সেটি মানবেন না, সেটি সার্চ কমিটি কিংবা অন্য যেকোনোভাবেই গঠন করা হোক। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচনের বিষয়টি নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সাধারণ মানুষ চায় না আগামী নির্বাচনও একইভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হোক। তারা চায়, যাই করা হোক না কেন, আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে তা করা হোক।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ দিয়ে থাকেন। কিন্তু ২০১২ সালে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন বাছাই করা হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতি সেই কমিশনের নিয়োগ দিয়েছিলেন, যে কমিশন এখনো কর্মরত। সার্চ কমিটির মাধ্যমে বাছাই করা হলেও তখন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসেছিলেন, তাঁদের মতামত নিয়েছিলেন। সার্চ কমিটি করার উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন কমিশনে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে আসা। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও এমন দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই কমিশন সম্পর্কেও আমাদের বিস্তর অভিযোগ শুনতে হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির মতো একটি বড় দল যখন তাদের ‘আজ্ঞাবহ’ বা ‘গৃহপালিত’ আখ্যা দেয়, তখন হতাশ হওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকে না। সবচেয়ে ভালো হতো রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতে একটি কমিশন গঠন করা গেলে। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য এতটাই প্রবল যে তেমন সমঝোতায় পৌঁছানো যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে। শুধু মতপার্থক্য নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও অসহিষ্ণুতা আজ এমন একপর্যায়ে চলে এসেছে যে তা আমাদের ক্রমেই এক জাতীয় সংকটের মুখোমুখি করছে। এ পরিস্থিতিতে এক পক্ষ কারো নাম প্রস্তাব করলে আরেক পক্ষ তাতে ভেটো দেবেই। তাহলে সমঝোতা হবে কিভাবে?

স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রায় সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের যথাযথ ভূমিকার ওপর। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের নির্বাচন কমিশনের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচন করার ক্ষেত্রে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের দিক থেকে আমাদের নির্বাচন কমিশনও অনেক শক্তিশালী ও স্বাধীন। তার পরও আমাদের নির্বাচন কমিশন তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম এমন যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কমিশনে আনাই হয় না। তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এ জন্য ক্ষমতাসীনদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে এবং দলীয় আনুগত্যসম্পন্ন ব্যক্তির বদলে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে আসতে হবে। আমরা আশা করি, আগামী নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে আমরা সেই মানসিকতার প্রতিফলন দেখতে পাব।


মন্তব্য