kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রামপাল নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউনেসকো

সরকারের উত্তর যেন সন্তোষজনক হয়

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনসহ চারপাশের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক চলছে। বিশ্বের ১৭৭টি সংস্থা প্রকল্পে অর্থায়ন না করতে ভারতের এক্সিম ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে।

এবার এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো। এ উদ্বেগ নিরসনের কাজটি সরকারকে যথার্থভাবে করতে হবে।

রামপাল প্রকল্পের জন্য করা পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষাকে (ইআইএ) ইউনেসকো অসম্পূর্ণ বলেছে। তারা প্রকল্পের কয়লা পরিবহনের জন্য নেওয়া পশুর নদ খনন পরিকল্পনার সঠিক ইআইএ করতেও বলেছে। এ জাতীয় উদ্যোগ পরিবেশে কী প্রভাব ফেলতে পারে তা সঠিকভাবে সমীক্ষার বিজ্ঞানসম্মত কৌশল রয়েছে। সব কিছু মেনে সমীক্ষা হয়ে থাকলে ইউনেসকো প্রশ্ন তোলার সুযোগ পায় কিভাবে? বিষয়টি যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সরকার ইউনেসকোকে তাদের মতামত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে মতামত দিচ্ছে। দেখতে হবে, কাজটি যাতে দায়সারা গোছের না হয়। এ প্রক্রিয়ায় যেন কোনো দুর্বলতা বা গোঁজামিল না থাকে। আমরা যদি মনেই করি প্রকল্পটি নিরাপদ—তার পক্ষে সন্তোষজনক তথ্যপ্রমাণ থাকতে হবে।

সুন্দরবন শুধু আমাদের একার সম্পদ নয়, সুন্দরবন এখন বিশ্বের স্বীকৃত ঐতিহ্য। তাই সুন্দরবনের অদূরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের খবরে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ ব্যক্ত করবেই। বাংলাদেশ যদি মনে করে এই স্থাপনা প্রতিবেশের কোনো ক্ষতি করবে না তাহলে তার পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমীক্ষা থাকতে হবে। দেশের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। তবে বিশেষজ্ঞ বা আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগও আমাদের আমলে নিতে হবে।

গত বছরের জুলাইয়ে ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৩৯তম অধিবেশনে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আগামী মাসে ৪০তম অধিবেশনেও তারা বিষয়টি তুলবে। এর আগে জাতিসংঘের আরেক সংস্থা রামসার সেক্রেটারিয়েটের পক্ষ থেকে একই ধরনের উদ্বেগ জানানো হয়। বাংলাদেশের ব্যাখ্যায় ইউনেসকো আশ্বস্ত না হলে হেরিটেজ কমিটির আসন্ন অধিবেশনে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি কিছুতেই প্রত্যাশিত হতে পারে না। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার দূরদর্শিতার সঙ্গে বিষয়টি সামাল দেবে। সরকারের তৈরি প্রভাব সমীক্ষাকে ইউনেসকো অসম্পূর্ণ বলেছে। এই অভিযোগ আসলেই বাস্তবসম্মত কি না, কিংবা সমীক্ষাটি ত্রুটিপূর্ণ হয়ে থাকলে এ জন্য দায়ী কারা—এ প্রশ্নগুলোরও উত্তর আসা প্রয়োজন।


মন্তব্য