kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

হাসিনা-সু চি বৈঠক

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হাসিনা-সু চি বৈঠক

যে দুটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে, তার মধ্যে মিয়ানমার একটি। সীমান্ত থাকলে স্বাভাবিকভাবেই কিছু সীমান্ত সমস্যা থেকে যায়।

মিয়ানমারের সঙ্গেও আছে। এই সীমান্তের ব্যাপ্তি ছোট হলেও শরণার্থী সমস্যা, সন্ত্রাস, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানজনিত সমস্যা বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন সামরিক শাসনের অধীনে থাকায় দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যথেষ্ট জোরদার হয়ে উঠতে পারেনি। ফলে আলোচনার মাধ্যমে সেসব সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ খুব একটা এগোয়নি। সম্প্রতি দেশটিতে গণতন্ত্র ফিরে আসায় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশকে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তারই একটি সূচনা বলা যায় মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশন উপলক্ষে উভয় নেতা বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। সেখানেই এ বৈঠক হয়। এই এক বৈঠকেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, এমন আশা করার কোনো কারণ নেই। ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের এই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে হবে।

সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে সু চি মিয়ানমার সরকারের প্রধান হতে পারেননি। তা সত্ত্বেও সরকারে তাঁর অবস্থানকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। বৈঠকের বিস্তারিত জানা না গেলেও কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, উভয় নেতার বৈঠকটি ছিল খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ। অন্যদিকে সাধারণ পরিষদের বর্তমান অধিবেশনে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান শরণার্থী সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। নিরাপদ অভিবাসন, টেকসই উন্নয়নবিষয়ক এজেন্ডা-২০৩০ বাস্তবায়ন ও শরণার্থীদের মানবাধিকার বিষয়ক গোলটেবিল আলোচনায় যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যেই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উদ্বাস্তু ও অভিবাসন সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্লেনারির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ভাষণও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, অভিবাসন বিষয়টি সার্বিকভাবে মোকাবিলায় বিশ্বকে পারস্পরিক দায়িত্বশীলতার ওপর ভিত্তি করে একটি সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। আমরাও তাই মনে করি। জাতিগত বিদ্বেষ, যুদ্ধ-বিবাদ নিরসন করে মানুষকে নিজ ভূমিতে জীবন উপভোগের সুযোগ করে দিতে হবে। তা না হলে দিন দিন এ সমস্যা পৃথিবীব্যাপী ক্রমেই এক দুঃসহ অবস্থার সৃষ্টি করবে।

মিয়ানমার বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী। কিন্তু সম্পর্কের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় সীমান্ত এলাকাগুলো অপরাধের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান যারপরনাই বিস্তৃত হয়েছে। মিয়ানমারের কয়েক লাখ মুসলমান অধিবাসী কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এসব সমস্যা উভয় দেশের জন্যই ক্ষতিকর। বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্কের কোনো বিকল্প নেই। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার মনোভাব যত এগিয়ে যাবে, সীমান্ত তত সুসংহত হবে, অপরাধ কর্মকাণ্ড হ্রাস পাবে। তা ছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে গেলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। এতে উভয় দেশই এগিয়ে যাবে। আমরা আশা করি, দুই নেতার বৈঠকের মধ্য দিয়ে যে প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে, তা অদূর ভবিষ্যতে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নেবে।


মন্তব্য