kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

সরকারি সার চুরি

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কৃষিপণ্য উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। দেশের চাহিদা মিটিয়ে চাল এখন বাইরেও রপ্তানি হচ্ছে।

উদ্বৃত্ত খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পেছনে কৃষকের নিরলস পরিশ্রমের পাশাপাশি রয়েছে সরকারের চেষ্টা। নির্দিষ্ট সময়ে কৃষকের হাতে ভর্তুকি মূল্যে সার পৌঁছে দেওয়া ও সেচ সুবিধার জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিশ্চিত করেছে সরকার। অন্যদিকে কৃষিবান্ধব সরকারের উদারতার সুযোগ নিয়ে একটি সিন্ডিকেট নিজেদের ভাগ্য বদলে নিয়েছে। কৃষকের জন্য সরবরাহ করা সার খোলাবাজারে বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। বিসিআইসির মজুদ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সুযোগে ব্যবসায়ী ও বিসিআইসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের দৃষ্টি সরকারি সারের দিকে।

দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে তার অর্ধেকেরও বেশি উৎপাদন হয় দেশের সার কারখানায়। বাকি সার আমদানি করতে হয়। প্রতিবছরের চাহিদা ২৫ থেকে ২৬ লাখ টন মজুদ করে রাখার মতো জায়গা বিসিআইসির নেই। এই প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও খোলা জায়গা মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টন সার মজুদ রাখা যায়। গুদাম স্বল্পতার এই সুযোগ নিচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো, যাদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে সার পৌঁছে দেওয়া। নির্দিষ্ট সময়ে সার নেওয়ার পরও তা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে না। এ সময় ঠিকাদারদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সার রাখা হয়। এই ব্যবস্থার একটি গালভরা নামও দেওয়া হয়েছে, ‘ট্রানজিট’। এ সময় সার ঠিকাদারদের জিম্মায় থাকে। গুদাম খালি হলে সার পৌঁছে দেওয়ার রীতি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে এসব সার আর নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে না। এর আগেই অনেক সার নষ্ট হয়ে যায়। যোগসাজশ করে দেখানো হয় সার নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবেই চুরি করা হয় কৃষকের জন্য সরবরাহ করা কোটি কোটি টাকার সার। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক বছরে অন্তত দেড় লাখ টন ‘ট্রানজিট’ সার বিক্রি করা হয়েছে কালোবাজারে, যার মূল্য কমপক্ষে ৫৪০ কোটি টাকা। বিসিআইসির একশ্রেণির কর্মকর্তা ও পরিবহন ঠিকদারের মধ্যে টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিসিআইসি যে এই সার লোপাটের বিষয়টি জানে না, তা নয়। তাদের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে অভিযোগের সত্যতা। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে চুরি থামছে না। আমরা এর প্রতিবিধান চাই। কৃষকের হক, রাষ্ট্রের সম্পদ চুরি করে কেউ পার পেয়ে যাবে, তা হতে পারে না।


মন্তব্য