kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফর

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাক

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফর

মুক্তিযুদ্ধের সময় যে কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল, কানাডা তার মধ্যে অন্যতম। তখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পিয়েরে এলিয়ট ট্রুডো।

প্রতিবেশী ও বৃহৎ শক্তির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা অগ্রাহ্য করে তিনি বাংলাদেশে পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেন। স্বাধীন বাংলাদেশকে যে কটি দেশ দ্রুত স্বীকৃতি দিয়েছিল, তার মধ্যেও কানাডা ছিল অন্যতম। পিয়েরে ট্রুডোর সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। পিয়েরে ট্রুডোর ছেলে জাস্টিন ট্রুডো বর্তমানে কানাডার প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলন উপলক্ষে কানাডা সফরের সময় গত শুক্রবার জাস্টিন ট্রুডোর হাতে সেই সম্মাননা তুলে দেন। এতে আবারও প্রমাণিত হলো একাত্তরে যাঁরা আমাদের বন্ধু ছিলেন, তাঁদের অবদানের কথা আমরা ভুলে যাইনি, বরং শ্রদ্ধাভরেই তাঁদের স্মরণ করা হয়।

কানাডা শুধু একাত্তরের বন্ধুই নয়, স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশের একটি প্রধান উন্নয়ন সহযোগী দেশ। সংগত কারণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান কানাডা সফর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও তা ছিল অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। এ সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার বৈঠকটিও ছিল অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ। তাতে উভয় দেশের স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কিভাবে আরো এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ অত্যন্ত আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশ সফরের কথা বলেছেন। এ সময় তিনি মাত্র ১২ বছর বয়সে পিতার সঙ্গে বাংলাদেশ ভ্রমণের স্মৃতি তুলে ধরেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আরো একটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে, তা হলো বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত পলাতক আসামি নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে ফিরিয়ে আনা। কানাডার আইন ও সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া’ মৃত্যুদণ্ড হতে পারে এমন কোনো আসামিকে কানাডা ফিরিয়ে দেয় না। তার পরও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জানান, এ ব্যাপারে দুই দেশের কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করা হবে।

পৃথিবীব্যাপী এইডস, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগগুলো প্রতিবছর বহু মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। এসব রোগ প্রতিরোধ, নিরাময় ও নির্মূলে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা বেগবান করাই ছিল গ্লোবাল ফান্ডের এবারের সম্মেলনের মূল আলোচ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে এসব রোগের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের নেওয়া নানামুখী প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন এবং বিশ্বনেতাদের এ ক্ষেত্রে আরো বেশি অবদান রাখার আহ্বান জানান। আমরা আশা করি, দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম দুটি দেশের এই বন্ধুত্ব ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে আগামী দিনগুলোয় দুটি দেশই দ্রুত

এগিয়ে যাবে।


মন্তব্য