kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সড়ক দুর্ঘটনা থেমে নেই

প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সড়ক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। অনেক পরিবারের এবারের ঈদ উৎসবের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা।

গত কয়েক দিনে মহাসড়কে যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ৭৭ জন। শনিবার সকালে ঈদফেরত যাত্রায় টাঙ্গাইলে দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাতজন। অন্তত ২০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।  

অপ্রতিরোধ্য সড়ক দুর্ঘটনায় যেমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, তেমনি অনেক পরিবার পথে বসছে। নিকট অতীতে আমরা দেখেছি দেশের অনেক প্রতিভাবান মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। অনেক পরিবারের আশার আলো নিভে গেছে যানবাহনের চাকায়। দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রশিক্ষিত চালকের অভাব। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া চালকের আসনে বসে যাওয়ার ঘটনা তো নৈমিত্তিক। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ চালকেরই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, এমন তথ্য মিলেছে পরিসংখ্যানে। আবার বৈধ লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন এমন চালকদের ৩১ শতাংশ কোনো অনুমোদিত ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি। ফলে চালকদের বেশির ভাগই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত নন। তার ওপর রয়েছে চলাচলের অনুপযোগী লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি। আবার ঈদের সময় অনেক ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামে। দূরপাল্লার পথেও ভাড়া নিয়ে যায়। এসব গাড়িও অনেক সময় দুর্ঘটনায় পড়ে। একে তো ফিটনেস নেই, তার ওপর মহাসড়কে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকা চালকও দুর্ঘটনার কারণ হয়। এ ছাড়া ধীরগতির যানবাহন তো আছেই। আবার অনেক চালককেই দেখা যায় মহাসড়কে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স চালকদের হাতে ফিটনেসবিহীন কত যানবাহন যে দেশের সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করছে তার সঠিক হিসাবও নেই।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে হাইকোর্ট পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সড়কের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্কুলের সিলেবাসে ট্রাফিক নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছিল। গাড়িচালকদের কমপক্ষে এসএসসি পাস হতে হবে—এমন নির্দেশনাও ছিল। কিন্তু এই নির্দেশনা কি মানা হচ্ছে? মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করা যায়নি। অদক্ষ চালকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে যানবাহন। সড়ক দুর্ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে আন্তরিকতার পরিচয় পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব হয়নি। আমরা আশা করব, বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কমিটিগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নের ভেতর দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  


মন্তব্য