kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গিদের নানামুখী তৎপরতা

দমনে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এরই মধ্যে বেশ কিছু জঙ্গি আস্তানায় সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন জঙ্গি নেতা এসব অভিযানে নিহত হয়েছে।

জীবিতও ধরা পড়েছে কয়েকজন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে গুলশান ও শোলাকিয়ার পর এ পর্যন্ত আর বড় কোনো জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু তাতে নিশ্চিন্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জঙ্গিরা নির্মূল হয়ে গেছে—এমন ভাবারও কোনো কারণ নেই। চাপের মুখে জঙ্গিরাও তাদের কৌশল বদল করে থাকতে পারে। আপাতত আক্রমণ বন্ধ রেখে সদস্য সংগ্রহ ও শক্তি বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে থাকতে পারে। গতকালের কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, জঙ্গিদের তিনটি ধারা এখন মিশে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিদেশি ও আঞ্চলিক জঙ্গি সংগঠন এবং সমমনা রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। তাই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযানে ভাটা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং ক্রমেই জঙ্গিবিরোধী অভিযান ও নজরদারি আরো জোরদার করতে হবে।

দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও জামায়াতে ইসলামীসহ আরো কিছু দল মরণকামড় দেয়। শুরু হয় তাদের রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী তত্পরতা। হরতালের নামে বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে নিরীহ মানুষ হত্যা, রেললাইন উপড়ে ফেলা, সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ধ্বংসাত্মক তত্পরতা চালানো হয়। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন খবরে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে জঙ্গিদের সঙ্গে নানাভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী এই শক্তির কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও সজাগ থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি-সন্ত্রাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জঙ্গিবাদ তখনই ব্যাপকতা পায় যখন তাদের অর্থপ্রবাহ ঠিক থাকে। বাংলাদেশেও জঙ্গিবাদ তখনই দমন করা যাবে, যখন তাদের অর্থপ্রবাহ বন্ধ করা যাবে। তাদের অর্থের উৎসগুলো জেনে তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত আরেকটি খবর রীতিমতো উদ্বেগজনক। একটি এনজিওর নামে তুরস্কের কিছু নাগরিক এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) কিছু লোক কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে দুই শতাধিক গরু জবাই করে মাংস বিতরণ করেছে। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তাদের ওপর হামলাও করা হয়েছে। তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সংস্থার বিরুদ্ধে আগেও জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার পরও তারা কিভাবে সেখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা চাই, জঙ্গিবাদ নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হোক। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হোক। কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে জঙ্গি-সন্ত্রাস নির্মূল করা সম্ভব হবে না।


মন্তব্য