kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চামড়া সিন্ডিকেট সক্রিয়

ব্যবসায়ীদের রক্ষা করবে কে

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চামড়া সিন্ডিকেট সক্রিয়

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বরাবরের মতো এবারও সক্রিয় চামড়া সিন্ডিকেট। ঈদের আগেই ঢাকা ও সারা দেশের জন্য আলাদা দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু কোথাও সেই দর মেনে চামড়া বেচাকেনা হয়নি। এবার প্রচুর পশু কোরবানি হয়েছে। খুচরা বাজারে চামড়ার সরবরাহ ছিল আগের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু ট্যানারি মালিক, আড়তদার, চামড়া রপ্তানিকারক ও লবণ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবার চামড়ার দাম নিয়ে কারসাজি শুরু করায় কাঁচা চামড়া নিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের বিপাকে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কয়েক বছর ধরেই ঈদুল আজহায় আগের বছরের চেয়ে কমিয়ে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়। এবার যে দাম নির্ধারণ করা হয়, তা ছিল গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কম। সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে বিক্রেতাদের অনেকেই গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে লবণের সংকট সৃষ্টি করে চামড়া বিক্রিতে ব্যবসায়ীদের বাধ্য করা হয়েছে। কোরবানির পশুর চামড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে ঢাকার আড়তে আসে। আড়তদাররা এসব চামড়া কিনে ট্যানারিতে সরবরাহ করে থাকেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ঢাকার আড়তদার ও ট্যানারি মালিক, এই তিন পক্ষের মধ্যে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়। এবার ট্যানারি মালিকরা ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার পাওনা পরিশোধ না করায় আড়তদারদের পুঁজির সংকটে পড়তে হয়। যে দর বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা যৌক্তিক ছিল না। লবণ সংকটের কারণে স্থানীয়ভাবে চামড়া সংরক্ষণ অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়নি। সংগ্রহের পর সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ করতে না পারলে চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেক ব্যবসায়ীকেই বাধ্য হয়ে লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। ট্যানারি স্থানান্তরের সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এবার ট্যানারি মালিকরা চামড়ার দর কমানোর ব্যাপারে একমত হয়ে দাম নির্ধারণ করে বলেও অভিযোগ আছে।

দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়, তার ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ আসে ঈদুল আজহায়। কোরবানিতে ভালো ও সুস্থ গরু জবাই হয় বলে এই চামড়ার মানও ভালো থাকে। ব্যবসায়ীদেরও এই চামড়া সংগ্রহের আগ্রহ থাকে।

কোরবানির চামড়া আমাদের দেশের সম্পদ। সম্ভাবনাময় চামড়াশিল্পের দ্রুত বিকাশের স্বার্থে কোরবানির চামড়া নিয়ে অসাধু বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। দেশে চামড়ার দাম না পেলে চোরাই পথে এই চামড়া পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে। কারণ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চামড়া নিয়ে এই অসাধু বাণিজ্য বন্ধ করা না গেলে চামড়া পাচার কোনোভাবেই রোধ করা যাবে না। দেশের সম্পদ দেশে রাখার স্বার্থে চামড়া সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। চামড়ার বাজার স্থিতিশীল রাখতে না পারলে তা আমাদের অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর হবে।


মন্তব্য