kalerkantho


টঙ্গীর কারখানায় অগ্নিকাণ্ড

কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কঠোর হতে হবে

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল। তার জের এখনো কাটেনি। দেশি-বিদেশি নানামুখী চাপের কারণে পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ কিছুটা উন্নত হলেও অন্যান্য শিল্পের কর্মপরিবেশ আগের মতোই আছে। গত শনিবার টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সেটিই প্রমাণ করে। সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন ১০ জন এবং আহত হয়েছেন ৪০ জনের বেশি। উদ্ধারকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে বলা যাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার জন্য কারখানার ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটিকেই প্রধানত দায়ী করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অনেক শ্রমিক সংগঠনও এ ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে। পাশাপাশি এ কারখানার ফয়েল ব্যবহারকারী দুটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নেসলে ও ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোরও সমালোচনা করা হয়েছে এবং হতাহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে। রানা প্লাজা ধস আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুনামের যথেষ্ট ক্ষতি করেছিল।

সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার এ দুর্ঘটনা বাংলাদেশি পণ্যের সুনাম অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় শ্রমিকরা যে ভবনে কাজ করছিল তাতে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্যের মজুদ ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। অনেকেই বলছে, প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। প্রথমে বয়লার বিস্ফোরণের আশঙ্কা করা হলেও পরে গ্যাস বিস্ফোরণের ধারণা করা হচ্ছে। বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদেরও কেউ কেউ অভিযোগ করেছে, সেখানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাস লিক করছিল; কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। এদিকে উদ্ধারকর্মীরাও আশঙ্কামুক্তভাবে কাজ করতে পারছেন না। কারখানার কোথায় কী আছে তাঁদের জানা নেই, কোনো নকশাও নেই। রাসায়নিকের গুদামে আঘাত করা হলে ঘটে যেতে পারে আরেক বিপর্যয়। বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে গেলে আরো হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে ধীরে ও অতিরিক্ত সাবধানতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালানোর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু কেন এমন হবে? যাঁরা শিল্প-কারখানা গড়ে তোলেন, তাঁদের কি শ্রমিকদের প্রতি কিংবা পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রতি কোনো দায়িত্ববোধ থাকবে না? সরকারের কারখানা পরিদর্শন বিভাগের দায়িত্ব কী? কিভাবে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কারখানাটি এত দিন ধরে চলে আসছিল? এর ফলে বাংলাদেশি পণ্য ভাবমূর্তির সংকটে পড়লে তাতে কি দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না?

এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী একই ভবনে কারখানা ও রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। কারখানা মালিকরা কি তাতে সাড়া দেবেন? যাঁরা দেবেন না, তাঁদের বাধ্য করানোর সক্ষমতা সরকারের থাকা উচিত।


মন্তব্য