kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

পবিত্র ঈদুল আজহা

সব ক্ষেত্রে ত্যাগের দৃষ্টান্ত চাই   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পবিত্র ঈদুল আজহা

ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পালিত হয় এ উৎসব।

ঈদুল আজহা কোরবানির ঈদ হিসেবেও পরিচিত। কোরবানি শব্দটি আরবি অথবা ফারসি ভাষা থেকে আগত। অর্থ ত্যাগ ও নৈকট্য। মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি ও মানবকল্যাণে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করাই মূলত ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.) কোরবানির জন্য অনন্য ত্যাগের আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। আল্লাহর নির্দেশে তিনি নিজ পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন মক্কার মরু প্রান্তরে। মহান আল্লাহ ইব্রাহিম (আ.)-এর সংকল্পের দৃঢ়তা দেখে তাঁর কোরবানি কবুল করেন এবং ইসমাইল (আ.)-এর স্থলে একটি দুম্বা কোরবানি মঞ্জুর করেন। তারই সূত্র ধরে গোটা মুসলিম জাহানে আজও চলে আসছে কোরবানির এই ধারা। এই ধারার মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের দিকে অগ্রসর হয় মুসলিম জাতি।

কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যাদের ওপর জাকাত ওয়াজিব, তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। পশু কোরবানির মাধ্যমে গরিব-দুঃখী ও পাড়া-প্রতিবেশীকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্বার্থত্যাগ, আত্মত্যাগ ও সম্পদত্যাগই কোরবানি। কোরবানির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা ও দর্শন। ঈদুল আজহা আত্মত্যাগের প্রেরণায় উজ্জীবিত এক অনন্য আনন্দ উৎসব। যে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণ মূর্ত হয় মানুষের জীবনে, তার জন্য চরম ত্যাগ স্বীকারের প্রতীকি আচার এই কোরবানি। ঈদুল আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিজের অহমিকা ও উচ্চাভিলাষ ত্যাগ করা। পশু কোরবানির ভেতর দিয়ে মানুষের ভেতরে থাকা পশুশক্তি, কাম-ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি রিপুকেই ত্যাগ করতে হয়। শুধু পশু নয়, প্রয়োজন পশুত্বের কোরবানি। কোরবানিদাতা শুধু পশুর গলায় ছুরি চালান না, তিনি তাঁর সব কুপ্রবৃত্তির ওপর ছুরি চালিয়ে তা নির্মূল করেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমার কাছে কখনোই পশুর রক্ত ও মাংস পৌঁছে না। বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া বা খোদাভীতি। ’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩৭)

আজ এমন একসময়ে ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে যখন সমাজ ক্রমেই অস্থিরতা ও নিষ্ঠুরতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। পারস্পরিক সহমর্মিতার পথ থেকে আমরা যেন যোজন যোজন দূরে চলে যাচ্ছি। এই সংঘাত-সংঘর্ষের মনোবৃত্তি থেকে আমাদের ফিরে আসতে হবে। মানুষে মানুষে সৌভ্রাতৃত্ব তৈরি করতে হবে। সব ক্ষেত্রে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। দাঁড়াতে হবে দুস্থ ও আর্তমানুষের পাশে।

কালের কণ্ঠ’র পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, বিপণনকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।


মন্তব্য