kalerkantho


পশু পরিবহনে চাঁদাবাজি

দ্রুত ব্যবস্থা নিন

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল কোরবানির পশু পরিবহনে চাঁদাবাজির প্রতি জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। তা সত্য হলে রাস্তায় কোথাও চাঁদাবাজি হওয়ার কথা নয়।

কারণ, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোথাও চাঁদাবাজি করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু বাস্তব ভিন্ন কথা বলছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছে খোদ পুলিশেরই বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে আছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ঢাকার হাটগুলোতে আসা প্রায় প্রত্যেক গরু ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে পথে পথে তাঁদের অনেক জায়গায় চাঁদা দিতে হয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা ট্রাকপ্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুলিশ সরাসরি চাঁদা নেয়নি, তাদের নিয়োজিত লাইনম্যানরা চাঁদা নিচ্ছে। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অস্বীকার করলেই সত্য কখনো মিথ্যা হয়ে যায় না।

রাস্তায় চাঁদাবাজি হচ্ছে—সেটি পুলিশই করুক কিংবা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে অন্য কেউ করুক, তা না হলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করতেন না। সংবাদপত্রের নিজস্ব অনুসন্ধানেও এমন তথ্য পাওয়া যায়। তবে সেই চাঁদাবাজি অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম। এটিও পুলিশের একটি সাফল্য। পাশাপাশি গরু ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করেছেন, এবার রাস্তায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক ভালো। ছোটখাটো কিছু অভিযোগ ছাড়া রাস্তায় জোর করে গরু নামিয়ে নেওয়া কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা গতকাল পর্যন্ত খুব একটা শোনা যায়নি। অনেক জায়গায় পুলিশের পক্ষ থেকে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। র‌্যাব-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তার পরও প্রয়োজন অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত করা। ব্যবসায়ী কিংবা ট্রাকচালকদের সঙ্গে আলোচনা করে কোথায় কোথায় কারা চাঁদা নিচ্ছে, তা জানা যেতে পারে। গোয়েন্দা তত্পরতার মাধ্যমেও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করা যেতে পারে। এমন কিছু সফল অভিযান পরিচালিত হলে পুলিশের প্রতি মানুষের অভিযোগ কমবে। শুধু কোরবানির পশু পরিবহন নয়, ঢাকার ফুটপাতগুলোতেও লাইনম্যান দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

চাঁদাবাজি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তো আরো পুরনো। চাঁদাবাজি এখন সামাজিক ব্যাধির রূপ নিয়েছে। কোথাও কোথাও তা প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্রও পেয়েছে। এটি এক দিনেই দূর হয়ে যাবে না। এ জন্য যেমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর আন্তরিকতা থাকা প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। আমরা মনে করি, সমস্যাকে অস্বীকার করে নয়, কার্যকরভাবে মোকাবিলার মাধ্যমেই সমাজ থেকে চাঁদাবাজির মূলোৎপাটন করা সম্ভব হবে।


মন্তব্য