kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

বয়লার বিস্ফোরণ

দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিন

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বয়লার বিস্ফোরণ

শিল্প খাতে নিরাপত্তা ত্রুটি মাঝেমধ্যেই বড় দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। হতাহত হচ্ছে অসংখ্য সাধারণ শ্রমিক।

সর্বশেষ টঙ্গীর এক ফয়েল কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে ২৪ জন মানুষের প্রাণহানি আমাদের একই সঙ্গে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। রাতের শিফট শেষ করে যে শ্রমিকদের সকালে ঈদের ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল, তাদের সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হলো। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

রানা প্লাজা ধসের পর দেশে-বিদেশে তুমুল সমালোচনার মুখে পোশাক খাতের নিরাপত্তা বৃদ্ধির ওপর আমরা জোর দিলেও অন্যান্য শিল্প-কারখানা নিয়ে উদাসীনতা তেমন কাটেনি। রাইস মিলসহ বিভিন্ন কারখানায় মাঝেমধ্যেই বয়লার ফেটে দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এপ্রিলে সিরাজগঞ্জ, জুলাইয়ে নওগাঁ, আগস্টে নেত্রকোনায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিটি দুর্ঘটনায় একাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এর পরও বয়লার ব্যবহারকারী কারখানাগুলো সাবধান হচ্ছে না কেন? টঙ্গীর কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে এত মানুষের প্রাণহানির দায় কি কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায় না?

সরকারের সংশ্লিষ্ট শাখা বেপরোয়াভাবে কারখানা করার অনুমতি দেয়। শ্রমিকদের নিরাপত্তা মালিক নিশ্চিত করছে কি না দেখার জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার টঙ্গীর কারখানাটি কি নিয়মিত পরিদর্শন করা হতো? মালিকপক্ষ বয়লারসহ অন্য সরঞ্জামাদি ত্রুটিমুক্ত রাখার ব্যবস্থা কি নিয়েছিল? প্রস্তুতি ছিল অগ্নিনির্বাপণের? দমকল বাহিনীকে অনেক দূর থেকে পানি এনে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে। এমন একটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা স্থাপন করতে দেওয়া কি নিয়মসম্মত হয়েছে?

আমাদের আইন, বিধি, দালিলিক অবকাঠামো সবই আছে. শুধু প্রতিপালন সেভাবে হয় না। টাকা দিয়ে সরকারি লোকজনকে হাত করে যত্রযত্র কারখানা গড়ে তোলা হয়। মালিকপক্ষ নিয়ম ভেঙেও টাকার জোরে পার পেয়ে যায়। এ-জাতীয় অন্যায়ের শাস্তির নজিরও কম। শিল্প-কারখানার কর্মপরিবেশের সঙ্গে লাখ লাখ অসহায় শ্রমিকের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন জড়িত। কিন্তু মালিকদের কাছে নিরাপত্তা নয়—লাভটাই বড়। একই কথা খাটে পরিদর্শন বা নজরদারি কর্তৃপক্ষের বেলায়ও।

কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া থেকে শুরু করে পরিদর্শন, পরিচালনা সব স্তরে শতভাগ সততা নিশ্চিত না করতে পারলে কর্মপরিবেশ কখনো নিরাপদ হবে না। পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে আইনের শাসন। অপরাধ করে পার পাওয়া গেলে, শ্রমিকদের ঝুঁকির মধ্যে রেখে মুনাফা বৃদ্ধির সুযোগ অসৎ ব্যবসায়ীরা নেবেই। টঙ্গীর দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষের দায়দায়িত্ব খতিয়ে দেখতে হবে। কারো গাফিলতি প্রমাণিত হলে নিশ্চিত করতে হবে শাস্তি। শিল্প-কারখানায় বয়লারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সরঞ্জামাদি যেমন ব্যবহার করতে হয়, ঝুঁকি হ্রাসেরও কিছু উপায় থাকে। মালিকপক্ষকে সেসব মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে একটি সার কারখানায় বড় রাসায়নিক দুর্ঘটনা ঘটে। রানা প্লাজা ধসের পর অনেক বিদেশি ক্রেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। সে ধাক্কা সামলে ওঠা সম্ভব হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা আমরা ফেরত পাইনি। কারখানার কর্মপরিবেশের সঙ্গে কোটি শ্রমিকের নিরাপত্তার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির অগ্রগতিও জড়িত। তাই এ ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা-অনিয়ম সহ্য করা চলবে না।


মন্তব্য