kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

অমার্জনীয় অপরাধ

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ছেলেরা যা পারেনি, তা করে দেখিয়েছে মেয়েরা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ছেলেরা একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছে।

মেয়েদের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই অনন্য কৃতিত্ব এনে দিয়েছে যে কিশোরীরা, তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হায়েছে, তা অমার্জনীয়। ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য এই মেয়েদের তুলে দেওয়া হয়েছে লোকাল বাসে। পথে ইভ টিজিংয়ের শিকার হতে হয়েছে তাদের। বাড়িতে গিয়ে পড়তে হয়েছে চরম অবমাননাকর পরিস্থিতিতে। শুধু এই কিশোরীরাই নয়, তাদের অভিভাবকরাও অবমাননার শিকার হয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মান বয়ে এনে কলসিন্দুরের নাম উজ্জ্বল করেছে যে সোনার মেয়েরা, অভ্যর্থনার বদলে ভর্ত্সনা কি তাদের প্রাপ্তি? 

জাতি হিসেবে আমরা যে এখনো উদার হতে পারিনি, তার উদাহরণ কিশোরী ফুটবলারদের সঙ্গে এই আচরণ। যে মেয়েরা দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সে কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাফুফের উচিত ছিল মেয়েদের নিজ দায়িত্বে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া। কিংবা কলসিন্দুর থেকে দায়িত্বশীল কাউকে ঢাকায় এনে তাঁর দায়িত্বে মেয়েদের ছেড়ে দেওয়া। ঢাকা থেকে দূরের যাত্রায় ৯ জন কিশোরীকে ছেড়ে দেওয়া দায়িত্বহীনতার পরিচয় হয়েছে। এ দায় বাফুফে এড়াতে পারে না। ফুটবলের এই সোনার মেয়েরা নিতান্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছে বলেই বাফুফে এমন অবহেলা করতে পেরেছে?

এখনো কি মেয়েরা তাদের যোগ্য সম্মান পেতে পারে না। দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে। কিন্তু এ কোন শিক্ষার উদাহরণ তৈরি হলো সেদিন কলসিন্দুরগামী বাসে? এই সমাজ নিয়ে আমরা কি গর্ব বোধ করতে পারি? প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ আলোকিত হবে। অন্যকে সম্মান করতে শিখবে। যারা দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনে, তাদের যোগ্য সম্মান দিতে হবে। কিন্তু কলসিন্দুরের মেয়েদের জুটেছে কটূক্তি আর অপমান। এখানেই অবমাননা শেষ হয়নি। কলসিন্দুরে যাওয়ার পর এই মেয়েদের গ্রীষ্মকালীন ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলতে স্কুলের পক্ষ থেকে কুমিল্লায় যাওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু ওই প্রতিযোগিতার পরের দিন বাফুফের সংবর্ধনা থাকায় মেয়েরা যেতে চায়নি। স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের তিরস্কার করেই থেমে থাকেননি, স্কুল থেকে টিসি দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। মেয়ে খেলতে যেতে চায়নি বলে এক অভিভাবককে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করেছেন তিনি।

আমরা চাই এই অন্যায় আচরণের প্রতিকার হোক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ভবিষ্যতে যেন এমন কোনো অবাঞ্ছিত ঘটনা আর না ঘটে তার জন্য সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।


মন্তব্য