kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চামড়ার দাম নির্ধারণ

পাচার রোধ করা হোক

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চামড়ার দাম নির্ধারণ

পবিত্র ঈদুল আজহায় অনেক পশু কোরবানি করা হয়। জানা যায়, দেশে পশুর চামড়ার বার্ষিক জোগানের ৪৮ শতাংশই আসে এ সময়।

আর এ সময়টায়ই চামড়ার বাজারে একধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়। নানা ধরনের সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। কোথাও কোথাও দাম অস্বাভাবিক কমে যায়। আর এসব কারণে প্রতিবছরই প্রচুর চামড়া পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হয়ে যায়। চামড়ার বাজারের এ অস্থিরতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। কোরবানি করা পশুর মাংসের একটি অংশ যেমন গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়, তেমনি চামড়া বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো অর্থই গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়। অথচ প্রতিবছর গরিব-মিসকিনদের এই হক বা পাওনা কেড়ে নেওয়ার জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।

অনেক জায়গায় চামড়া কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। আবার চামড়া ধরেও রাখা যায় না, পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েও অনেক স্থানে ফড়িয়ারা কম দামে চামড়া কেনার চেষ্টা করে। এগুলোর কোনোটিকেই সুস্থ মানসিকতা বলা যায় না। এ বছরও ঈদের আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চামড়াশিল্পের তিন প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠনের বৈঠক হয়েছে এবং দাম নির্ধারিত হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ার কথা বলে গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা কমানো হয়েছে।

এ বছর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৫০ টাকা এবং লবণযুক্ত খাসির চামড়া ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক বিক্রেতারা এর কাছাকাছি দামও পাবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ মাঠপর্যায়ে চামড়া কেনেন সাধারণত ফড়িয়া বা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তাঁরা চেষ্টা করেন, অর্ধেক দামে চামড়া কিনতে, যেমনটা গত বছরও দেখা গেছে। চামড়ার দাম এভাবে কমে যাওয়ায় শুধু গরিব মানুষ বঞ্চিত হয় তা নয়, দেশও বঞ্চিত হয়। দেখা যায়, ভারতে চামড়ার দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় প্রচুর চামড়া পাচার হয়ে যায়। গত বছর বিজিবি-পুলিশের ব্যাপক নজরদারি সত্ত্বেও কোনো কোনো সীমান্ত দিয়ে ব্যাপক হারে চামড়া পাচারের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি একটি বিষয় আমাদের বোধগম্য নয়, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যদি বেশি দামে চামড়া কিনে ব্যবসা করতে পারেন, তাহলে আমাদের ব্যবসায়ীরা তা পারেন না কেন?

আমরা চাই, চামড়া সংগ্রহের বিষয়টি সুষ্ঠু নিয়মনীতির আওতায় আনা হোক। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখেই মূল্য নির্ধারণ করতে হবে, কিন্তু তা করতে হবে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে। পাশাপাশি চামড়া নিয়ে যেন সিন্ডিকেট, জবরদস্তি বা অন্য কোনো অনিয়ম না চলতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। চোরাচালান রোধে নিতে হবে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা।


মন্তব্য