kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ঈদে বাড়ি ফেরা

পথের ভোগান্তি দূর করুন

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঈদুল আজহা সামনে রেখে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাড়ি ফেরা। এরই মধ্যে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

ঈদের তিন দিনের সঙ্গে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি ও মাঝের একটি দিন ছুটি ঘোষণা হওয়ায় এবারও ঈদে অধিকসংখ্যক মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে ঘরমুখো হবে। বরাবরই বাস, ট্রেন ও লঞ্চের সব আগাম টিকিট প্রথম দিনে কাউন্টার থেকে বিক্রি হয়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদে ঘরমুখো মানুষকে টিকিট সংগ্রহ করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। ঘরে ফেরার আনন্দ অনেকটা ম্লান করে দেয় পথের বিড়ম্বনা। অধিক যাত্রী পরিবহন করতে গিয়ে আন্তজেলা রুটে চলাচলকারী বাসগুলো নির্দিষ্ট সময় ধরে রাখতে পারে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সড়ক-মহাসড়কে অবাঞ্ছিত যানজট। এরই মধ্যে কয়েকটি মহাসড়কে যানজট দেখা দিয়েছে। মহাসড়কে সৃষ্ট যানজটে ভুগতে হয়েছে রাজধানীবাসীকেও।

এমনিতেই ঈদের সময় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ে। আঞ্চলিক সড়কেও যাত্রী পরিবহন বেড়ে যায়। কোরবানির ঈদের সময় পশুবাহী ট্রাক চলাচল করে। ফলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকে বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কও ঈদযাত্রায় ভোগান্তির কারণ হয়। বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণেও যানজট হয়। যেমন হয়েছিল গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। গত রোজার ঈদের আগে থেকেই সড়ক-মহাসড়ক মেরামতে হাত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এবারও যে পথের ভোগান্তি হতে পারে—এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। এবার দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষকে বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে ফেরিঘাটের কারণে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে পারাপার যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রচণ্ড স্রোতের তোড়ে ঘাট ভেঙে যাচ্ছে। ঘাট এলাকার সামনের চরটি এবারের বর্ষায় ভেঙে যাওয়ায় ফেরিঘাটে পানির চাপ বেড়েছে। চারটি ফেরিঘাটের একটি দিয়ে এখন কোনোমতে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এ ঘাটটিও যে ভাঙনের মুখে পড়বে না, তার নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনেক আগেই এই ফেরিঘাট সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। এখানে বিকল্প ঘাট নির্মাণের সুযোগ আছে। উজানে ভাঙনের আংশিক আশঙ্কা থাকলেও এক কিলোমিটার ভাটিতে ঘাট তৈরি অনেক নিরাপদ। আগেও এখানে ফেরিঘাট ছিল। এখানে বর্তমানে কোনো ভাঙন নেই। এখানে ঘাট চালু করতে হলে সামান্য দূরত্বের লিংক রোড তৈরি করতে হবে। ঘাটে কার্যরত তিন সংস্থা—বিআইডাব্লিউটিএ, বিআইডাব্লিউটিসি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও আন্তরিকতা থাকলে দৌলতদিয়ার বিকল্প ফেরিঘাট তৈরি করতে কোনো সমস্যা হবে না বলে আমরা মনে করি। আমরা আশা করব, ঈদযাত্রায় পথের বিড়ম্বনা দূর করতে সম্ভব সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য